দুপচাঁচিয়ায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মারপিট ও দুর্নীতির অভিযোগ

দুপচাঁচিয়া(বগুড়া) প্রতিনিধিঃ দুপচাঁচিয়া উপজেলার ২নং চামরুল ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাজাহান আলীর বিরুদ্ধে বয়স্কভাতা, প্রতিবন্ধীভাতা ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর অধীনে আরএমপির মহিলাকর্মী নিয়োগে সুপারিশের নামে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও তার দূর্নীতির প্রতিবাদ করায় গত ২৩আগষ্ট ৭,৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য বিউটি বেগমকে মারপিট ও শ্লীলতাহানীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই মহিলা সদস্য ২৪আগষ্ট চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্রসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট অভিযোগ দাখিল করেছে। ইউপি সদস্য শাজাহান আলী গ্রামপুলিশ সঞ্জিত চন্দ্র বর্মনকেও গত ২৬জুলাই মারপিট করে। এ বিষয়ে লাঞ্চিত গ্রামপুলিশ সঞ্জিতও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে এবং থানায় অভিযোগ জানিয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান আলীর সভাপতিত্বে গত ২৪আগষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় শুধুমাত্র ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য শাহজাহান আলী ছাড়াও ৮জন ইউপি সদস্য ও ৩জন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য শাজাহান আলীর বিরুদ্ধে মহিলা ইউপি সদস্যকে মারপিট, তারপূর্বে গ্রামপুলিশ সঞ্জিত বর্মনকে মারপিটসহ বয়স্কভাতা, প্রতিবন্ধীভাতা ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর অধীনে আরএমপির মহিলাকর্মী নিয়োগে সুপারিশের নামে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয় এবং বিষয়টি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সভায় গৃহীত সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের আলোকে ওই দিনই উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে পত্র প্রেরণ করা হয়।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শাজাহান আলী মুঠোফোনে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আমি ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান আলীর বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ বিভিন্ন সরকারি উর্দ্ধতন দপ্তর ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিতভাবে জানিয়েছি। এ কারণেই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা মারপিট ও দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন।
ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী জানান, কাথোহালী গ্রামের রিপন মন্ডলের স্ত্রী প্রতিবন্ধী মরিয়ম বেগমের নিকট থেকে প্রতিবন্ধীভাতার কার্ড করে দেয়ার জন্য ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য শাজাহান আলী ১০হাজার টাকা নিয়েছে এবং আরএমপির নিয়োগপত্র দেয়ার নামে ২০হাজার টাকা নিয়েছে। একইভাবে ওই ওয়ার্ডের প্রায় ২০জন হতদরিদ্র মানুষের থেকে বয়স্কভাতা, প্রতিবন্ধীভাতা ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর অধীনে আরএমপির মহিলাকর্মী নিয়োগে সুপারিশের নামে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমানিত হয়েছে। তিনি আরও জানান, তার বিরুদ্ধে ইউপি সদস্য শাজাহান আলীর আনিত অভিযোগ সম্পর্কে তিনি জানান আমি ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়কে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আবেদন জানিয়েছি।
ইউএনও এস.এম জাকির হোসেন জানান, চামরুল ইউপির ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাজাহান আলী স্থানীয় সরকার বিভাগের ৩টি বিধি লংঘন করায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট পত্র প্রেরণ করেছি। জেলা প্রশাসক মহোদয় বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

সর্বশেষ সংবাদ