এবার ইসরাইলকে সৌদির আকাশ ব্যবহারের অনুমতি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুরোধে ইসরাইলকে নিয়মিতভাবে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে সৌদি আরব। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু নিউজ এজেন্সি এ খবর প্রকাশ করে। ইসরাইলের নাম উল্লেখ করা না হলেও আরব-আমিরাত বিমান যোগাযোগের জন্য আকাশ সীমা ব্যবহারের অনুমতি প্রদানে সৌদির প্রতি অনুরোধ জানায়।

দুবাইয়ের সেই অনুরোধের পর আরব আমিরাতের সঙ্গে যেকোনো দেশ থেকে বিমান যোগাযোগে সৌদি আরবের আকাশ সীমা ব্যবহার করার অনুমতি দিয়ে ঘোষণা পত্র প্রকাশ করা হয়। এতে করে দুবাই ও তেলআবিবের মধ্যে বিমান যোগাযোগের সময় ও খরচ অর্ধেক কমে আসবে। এর আগে দেশ দু’টির বিমান যোগাযোগে দুটি আলাদা দেশে অবতরণ করে তারপর আমিরাতে প্রবেশ করাতে হতো। এখন সেটির আর প্রয়োজন হবে না। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল নিজেদের ব্যবসায় এবং পর্যটনের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।

আগস্টে (১৩ আগস্ট) দুবাইয়ের সঙ্গে তেলাবিবের হওয়া ‘সম্পর্ক স্বাভাবিককরণ’ চুক্তির পর বেশ কয়েকটি চুক্তি হয়। এর মধ্যে দু’দেশের মধ্যে বিমান যোগাযোগ চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সোমবার (৩১ আগস্ট) ইসরাইলি পতাকাবাহী বিমানটি তেল আবিব থেকে উড্ডয়ন করে। ফ্লাইটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ সহযোগীদের সঙ্গে ছিলেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বিনইয়ামিন নেতানিয়াহু।

তার একদিন আগে রোববার (৩০ আগস্ট) সৌদি আরবের আকাশ পথ ব্যবহারে ইসরাইলকে অনুমতি দেয় রিয়াদ। এর আগে ওই বিশেষ ফ্লাইটটি আমিরাতে প্রবেশের জন্য রিয়াদের আকাশ পথ ব্যবহারে সৌদি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। তবে সেটি স্থায়ী অনুমতি ছিল না।

এবার আমিরাতের অনুরোধে সৌদি সরকার দেশ দু’টির মধ্যে বিমান চলাচলে সৌদি আরবের আকাশ সীমা ব্যবহারের স্থায়ী অনুমতি দিলো। তবে ওই অনুমতি পত্রে ইসরাইলের নাম উল্লেখ করা না হলেও বলা হয়েছে, ‌ ‘সব দেশ’ থেকেই আরব আমিরাতে প্রবেশের ক্ষেতে সৌদি আরবের আকাশ সীমা ব্যবহার করা যাবে।

এতে সৌদি আরবের বয়কটের স্বীকার হওয়া ইরান ও কাতারের দেশটির আকাশ সীমা ব্যবহার করার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা ছিল না। ফলে ওই দুই দেশও সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জানায় সৌদি প্রেস এজেন্সি।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) যেভাবে ইসরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের ঘোষণাটি এসেছিল, তা সবাইকে হতচকিত করেছে। এতে মধ্যস্থতা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনিই প্রথম এক বিবৃতিতে এই ঘটনা জানান। পুরো আলোচনাটি চলছিল বেশ গোপনে। এতটাই গোপনে যে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যন্ত নাকি এ বিষয়ে কিছু জানতেন না। জানায় বিবিসি।

আকাশ পথ ব্যবহারের অনুমতি দেয়ার পর সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান টুইটারে ইসরাইলের নাম উল্লেখ না করে লিখেছেন, ‌‘স্বাধীন ফিলিস্তিন গঠন ও দেশটিতে দখলদারিত্বের অবসানের বিষয়ে সৌদি আরবের আগের সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আসবে না।’

জেরুজালেমে আমিরাত-ইসরাইল চুক্তি সামনে এগিয়ে যাওয়ার বিশাল সিঁড়ি বলে উল্লেখ করেছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। ইরানকে মোকাবিলায় ইসরাইলের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশের জন্য আরব দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে সৌদি আরব ইঙ্গিত দিয়েছে তারা এখনো আমিরাতের মতো করে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য প্রস্তুত নয়।

সর্বশেষ সংবাদ