বিধি ভেঙে তুলে নেয়া ২১৫ কোটির স্বচ্ছ হিসেব চায় সংসদীয় কমিটি

২০০৯-২০১০ হতে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছর পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও নিরীক্ষা এবং তদন্ত কার্যক্রমে বিধি ভেঙে তুলে নেয়া দুইশো পনের কোটি টাকার স্বচ্ছ হিসেব চায় সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) একাদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটির ১৩তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মোঃ আলী আশরাফ এমপি। কমিটির সদস্য মোঃ মুজিবুল হক, গোলাম মোহাম্মদ কাদের এবং আব্দুল মান্নান বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে একাদশ জাতীয় সংসদে প্রথম অধিবেশন হতে সম্প্রতি সমাপ্ত অধিবেশন পর্যন্ত সংসদের ফ্লোরে প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদ্বয় কর্তৃক প্রদত্ত প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন অগ্রগতি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পসমূহের বিবরণ এবং বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) কর্তৃক শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপিত বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে মতামত প্রদানসহ বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের ২০০৯-২০১০ হতে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছর পর্যন্ত ২২,৯৯০টি সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও নিরীক্ষা এবং তদন্ত কার্যক্রমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান/ব্যক্তি কর্তৃক অবৈধ/বিধিবহির্ভূতভাবে উত্তোলিত ২১৫,৫৪,১৩,৪৩৩/= (দুইশত পনেরো কোটি চুয়ান্ন লক্ষ তেরো হাজার চারশত তেত্রিশ) টাকা আদায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এর মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নিরীক্ষা করার জন্য কমিটি কর্তৃক সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে উচ্চ শিক্ষার গুনগত মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের করণীয় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব/মতামত প্রদানসহ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তদারকি বৃদ্ধির জন্য কমিটি কর্তৃক সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন ও অভিভাবকদের সহায়তায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র/ছাত্রীর উপস্থিতিসহ শিক্ষকদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিতকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিটি সুপারিশ করে।

বৈঠকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিবদ্বয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং আইএমইডি’র অতিরিক্ত সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য, বিভিন্ন সংস্থাপ্রধানসহ  বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।