বগুড়া মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষকদের বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার: ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ, অধিগ্রহণকৃত জমি প্রতিষ্ঠানের নামে না করে অধ্যক্ষ’ র নিজ নামে করা ও শিক্ষক শিক্ষকীীদে কাছে থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে বৈধ নিয়োগ না দেওয়া সহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নিতীর অভিযোগে বগুড়া মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আবদুল হান্নান ও প্রধান শিক্ষিকা মরিয়ম বেগমের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে অত্র প্রতিষ্ঠানের ৪০ থেকে ৪৫ জন শিক্ষক শিক্ষিকা বৃন্দ। বৃহস্পতিবার সকালে তারা শহরের জামিলনগর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। এ সময় তারা অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেয় ও তাদের বিচার দাবি করেন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানান ২০১৭ সালে অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান ও প্রধান শিক্ষিকা মরিয়ম বেগম প্রতিষ্ঠানের জমি অধিগ্রহণ ও চাকুরী স্হায়ীকরন সহ বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কাজ করার জন্য ৪০/৪৫ জনের কাছে থেকে প্রায় ১ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা নিয়েছে। কিন্তু সেই টাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠানের জায়গা নিজ নামে করেছে, প্রতিষ্ঠানের কোন উন্নয়ন করেনি এবং ৩ বছর পেরিয়ে গেলেও অদ্যাবধি আমাদের কোন বৈধ নিয়োগ দেয়নি। তারা বলেন এই সকল টাকাগুলো অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষিকা আত্মসাৎ করেছেন। অচিরেই সকল শিক্ষকদের বৈধ নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি জানান, না হলে সবার টাকা ফেরতের দাবি জানা। এসময় বিভিন্ন শিক্ষক-শিক্ষিকারা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এবং তারা সাবেক অধ্যক্ষ আব শিক্ষিকা অধ্যক্ষ প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন পরে বেলা ১২ টার দিকে অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান ও মরিয়ম বেগম আন্দোলনরত শিক্ষক শিক্ষিকাদের সামনে আসলে তারা পুবের মুখে পড়েন এ সময় শিক্ষকরা তাকে ঘিরে ধরে লাঞ্চিত করার চেষ্টা করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়েছে তাদের এই সকল অপকর্মের বিচার দাবি করেন এবং তাদের থেকে নেওয়া টাকাগুলো ফেরত দিতে বলেন না হলে নিয়োগ পত্র দেওয়ার জন্য দাবি জানান। সে সময় পুলিশ এসে তাদের কাছ থেকে অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নানকে উদ্ধার করে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেন। এ ব্যাপারে উক্ত প্রতিষ্ঠানের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন যে উক্ত অধ্যক্ষ প্রধান শিক্ষিকা কোন নিয়মমম নীতির তোয়াক্কা না করে শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি রক্ষা করার জন্য কাজ করছেন এসকল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের থেকে টাকা নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠান কোন কাজ না করে নিজেরা আ রেমসাৎ করেছেন। অফিশিয়ালি কাউকে কোন হিসাব দিচ্ছেন না। এতে ধরে নেওয়া যায় যে তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো আত্মসাৎ করা। তিনি অচিরেই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বৈধ নিয়োগপত্র প্রদান করা সহ প্রতিষ্ঠান সমস্ত হিসাবপত্র অফিশিয়াালি ভাবে দাখিল করার জন্য আহ্বান জানান। এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর আব্দুল মান্নান সরকার বলেন আমি এই প্রতিষ্ঠানকে দাড় করার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিন এর সার্বিক সহযোগিতায় এ পর্যন্ত এনে দাঁড় করিয়ে ছিলাম। মমতাজ উদ্দিন মৃত বরণ করার পর সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিন্ধান্ত গৃহিত হয় ভাইস চেয়ারম্যান এড.আল মাহমুদ কে চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত করা হয়। কিন্তু একটি মহল এ প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। বেআইনিভাবে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নানকে বরখাস্ত করা হয়েছে যেটা সাংগঠনিকভাবে অবৈধ।