বগুড়ায় পূজা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা পুলিশের মতবিনিময়

সঞ্জু রায়, স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বিপিএম (বার) বলেছেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব আসন্ন শারদীয় দূর্গা পূজাকে ঘিরে সুষ্ঠু আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে পুরো জেলায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন করোনা দুর্যোগের এই ক্রান্তিকালে পূজা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দদের সাথে নিয়ে উৎসবের প্রস্তুতিগ্রহণ, উদযাপনকালীন সময় এবং বিসর্জন সবকিছুই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখতে হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে বগুড়া জেলা পুলিশের আয়োজনে পুলিশ লাইন্স অডিটোরিয়ামে আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২০ইং উপলক্ষ্যে পূজা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দের সাথে নিয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি উপোরোক্ত কথাগুলি বলেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আব্দুর রশিদের সঞ্চালনায় সভায় পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা আরো বলেন, পূজাকে ঘিরে জেলায় সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে যার লক্ষ্যে পূজার এক সপ্তাহ আগে থেকেই পুলিশ সদস্যরা মাঠে থাকবে, শুধু তাই নয় মোটরসাইকেলে তিন জন আরোহন করে কেউ যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করতে পারে সে ব্যাপারে পুলিশ কঠোর থাকবে। সাথে সাথেই পূজাকে কেন্দ্র করে মাদকের সাথে কেউ যুক্ত হলে তাকে জিরো টলারেন্সে প্রতিহত করা হবে আর এ ব্যাপারে কেউ সুপারিশ করলে তাকেও পুলিশের নজরে আনা হবে মর্মে হুশিয়ারী দেন এসপি আশরাফ। পূজাকে ঘিরে পুলিশ সদর দপ্তর এবং পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রদানকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী বেশ কিছু বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার সকলকে সজাগ থাকতে বলেন। যার মাঝে উল্লেখযোগ্য, এবারের পূজাকে উৎসব হিসেবে নয় ধর্মীয় রীতিনীতি আনুষ্ঠানিকতার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে, করোনা থেকে সুরক্ষিত থাকতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং মন্দির ভিত্তিক স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তা সম্পর্কিত সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে , মাস্ক ছাড়া মন্দিরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, সাউন্ড বক্স বাজানো সম্পূর্ণ নিষেধ সাথে সাথে অতিরঞ্জিত সাজসজ্জা থেকে বিরত থাকা, পূজা মন্ডপের আশেপাশে কোন দোকান বসতে দেয়া হবেনা, ধর্মীয় রীতিনীতির সাথে সংযুক্ত নয় এমন কোন শোভাযাত্রা ভিড় করে জেলার কোথাও করা যাবেনা, মন্দিরে মন্দিরে সিসি টিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা, পরিচয়পত্র এবং নির্দিষ্ট পোষাক বা আলাদা কোন চিহ্ণ দিয়ে মন্দির ভিত্তিক সেচ্ছাসেবীর ব্যবস্থা করা, প্রতি বছরের ন্যায় সন্ধ্যার মধ্যেই প্রতিমা বিসর্জনের ব্যবস্থা করা এবং বিসর্জনের স্থানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করতে হবে এমন নানা নির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে পূজা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দদের সহযোগিতা কামনা করেন এসপি আলী আশরাফ ভূঞা। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সনাতন চক্রবর্তী, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি দিলীপ কুমার দেব এবং সাধারণ সম্পাদক সাগর কুমার রায়। সভায় মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির, শিবগঞ্জ থানার ওসি এস.এম বদিউজ্জামান, শাজাহানপুর থানার ওসি আজিম উদ্দিন, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জবৃন্দ। এছাড়াও পূজা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দদের মাঝে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের জেলা শাখার সাবেক সভাপতি অমৃত লাল সাহা, সদর উপজেলা শাখার সা: সম্পাদক আশীষ রায়, সংগঠনের পৌর কমিটির সভাপতি পরিমল প্রসাদ রাজ, সাধারণ সম্পাদক সুজিত তালুকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সঞ্জু রায়, দুপচাঁচিয়ার অসীম কুমার দাস, সারিয়াকান্দির চন্দন চক্রবর্তী ও প্রভাত সাহা, ধুনটের গোবিন্দ ঘোষ, নন্দীগ্রামের দুলাল মহন্ত, শেরপুরের সংগ্রাম কুন্ডু, আদমদীঘির অমিত দেবনাথ, কাহালুর রবীন্দ্রনাথ সরকার, গাবতলীর ধন্য গোপাল সিংহ, সান্তাহারের পিযুষ প্রাং, দুলাল অধিকারী প্রমুখ। সভায় এসময় জেলা পুলিশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার যথাক্রমে মোতাহার হোসেন এবং শেরপুর সার্কেলের গাজিউর রহমান, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার যথাক্রমে গাবতলী সার্কেলের সাবিনা ইয়াসমিন, নন্দীগ্রাম সার্কেলের রাজিউর রহমান, আদমদীঘি সার্কেলের এরশাদ হোসেন, জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ আছলাম আলী পিপিএম প্রমুখ।