বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং আলোচনায় পালিত হলো কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের মৃত্যুবার্ষিকী

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: আজ পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বলরামহাটে অবস্থিত কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ কমিউনিটি হাসপাতালের আয়োজনে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ এর ৩৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। এ উপলক্ষ্যে হাসপাতাল প্রাঙ্গনে আলোকচিত্র প্রদর্শনী, বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং আলোচনা। “মুক্তিযুদ্ধ,কমরেড ফরহাদ ও খাদ্য অধিকার” শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ এর ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর আনজুমান আখতার। সভার শুরুতে মুক্তিযুদ্ধে কমরেড ফরহাদ সহ অবদান রাখা প্রয়াত সকল মুক্তিযোদ্ধা, করোনাকালে প্রাণ হারানো দেশের সকল নাগরিকের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমরেড ফরহাদের দীর্ঘদিনের অনুসারী/সহযোদ্ধা বোদা মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুর রউফ, দেবীগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ সংসদের সদ্য সাবেক কমান্ডার স্বদেশ চন্দ্র রায়, বোদা উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ সংসদ এর সদ্য সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আবুল কাশেম, বোদা পাথরাজ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোহাঃ আমিনুল ইসলাম, বোদা মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আশরাফুল আলম লিটন, কমরেড ফরহাদের অনুসারী প্রামাণিকপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আহমদ আলী, কমরেড আবুল কালাম। এরপর শুরু হয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা। বিতর্কের বিষয় “খাদ্য সবার অধিকার, মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার-পূরণে সমন্বিত পরিকল্পনা অপরিহার্য” এর পক্ষে পাথরাজ সরকারি কলেজ তার্কিক মোঃ সাবিত, মোঃ মেহেদী হাসান, দলনেতা মাহমুদ বিন মারুফ এবং বিপক্ষে আফরিনা আক্তার সীমা, মিফতাহুল জান্নাত মীম, দলনেতা সিনথিয়া রহমান সানু তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নীলফামারি সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মণিশংকর দাসগুপ্ত, আটায়ারি আলোয়াখোয়া স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক মাজেদুল ইসলাম আকাশ এবং হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের ইয়ূথ কো-অর্ডিনেটর গাজী আনিকা আসলাম। বিচারকরা তার্কিকদের দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করে বিতর্ক প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা করেন। বিজয়ী হয় বিপক্ষ দল বোদা মহিলা মহাবিদ্যালয় ও দলনেতা সিনথিয়া রহমান সানু শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয়। বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভার মডারেটর ও সঞ্চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড বোদা পঞ্চগড় অফিসের প্রোগ্রাম অফিসার (ম্যানেজমেন্ট) সিজুল ইসলাম।
বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে, মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সকল আন্দোলন সংগ্রামে কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের অবদানের কথা স্মরণ করেন। দেশের মানুষের খাদ্যের অধিকার কর্মের অধিকার শ্রেণীবৈষম্য ক্ষুধা দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ বির্নিমাণে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন। কৃতি এ মুক্তিযোদ্ধা পঞ্চগড়-২ (বোদা-দেবীগঞ্জ) এর সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। স ংসদে তাঁর দেয়া দীর্ঘ বাজেট বক্তব্য সারাবিশ্বের গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছিল। জীবনের ১৪ বছর তিনি আতœগোপন এবং কারাগারে বন্দি ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকাকালীন সিপিবির সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক হুলিয়া মাথায় নিয়ে ৬২ সালে ছাত্র ও শ্রমিকদের সংগঠিত করেন গণ-আন্দোলনের জন্য। ৬৯,৭১ এবং পঁচাত্তর পরবর্তী স্বৈরশাসনে জেল জুলুম সত্ত্বেও তিনি সামরিক শাসনবিরোধী জাতীয় ঐক্য তথা ১৫ দলীয় ঐক্যজোট গঠন, ৫ দফা দাবি প্রণয়ন ও যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তুলতে বলিষ্ঠ ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এই দীর্ঘ কর্মজীবনের নানা দূর্লভ ছবি নিয়ে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এসব ছবি দেখে দূর দূরান্ত থেকে আসা তাঁর সহযোদ্ধা ও রাজনৈতিক অনুসারীরা আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। পাঁচপীর থেকে আসা কমরেড আব্দুল করিম জানালেন ছবিগুলো দেখে দিনগুলোর কথা চোখের সামনে ভাসছে। এই অনুষ্ঠানে নতুন প্রজন্মের শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়েছিল তারা কমরেড ফরহাদের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন, খাদ্যের অধিকার এবং কর্মের অধিকার নিয়ে তাঁর লড়াইয়ের কথা জানতে পারছে এটা খুব আনন্দের। কতদিন তিনি আতœগোপনে থেকে আমাদের সাথে যোগাযোগ করে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। অতিথিরা বললেন এসব দেখে সেইসব দিনের মানুষের অধিকারের কথা নতুন প্রজন্মকে জানাতে কমরেড মোহম্মদ ফরহাদ কমিউিনিটি হাসপাতালের এই উদ্যোগ খুবই প্রশংসার দাবি রাখে। ভবিষ্যতে তাঁর স্মৃতি রক্ষার্থে সর্বস্তরের মানুষের উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর করা উচিত। জেলে বসে তাঁর লেখা নানা চিঠিও স্থান পেয়েছে আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে। অনুষ্ঠানে এসেছিলেন এলাকার রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, কৃষক, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, সংস্কৃতিকর্মী, উন্নয়নকর্মী এবং সাংবাদিকবৃন্দ।