ট্রাম্পের তিন দিনের করোনা চিকিৎসায় খরচ সাড়ে ৮ কোটি টাকা!

মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিন দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর সেখান থেকে হোয়াইট হাউসে ফিরলেও তাকে নিয়ে আলোচনা শেষই হচ্ছে না। এদিকে দেশটির অনেক নাগরিকের মনে প্রশ্ন জেগেছে ট্রাম্পের চিকিৎসা খরচ নিয়েও।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে ট্রাম্প যে ভিভিআইপি মানের চিকিৎসা পেয়েছেন, তার খরচ অন্তত ১০ লাখ ডলার (৮ কোটি ৪৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা)।

ট্রাম্পের হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে যাওয়া-আসা, রোগ নিরূপণে বিভিন্ন পরীক্ষা, বিভিন্ন ওষুধসহ তার প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সুরক্ষা সরঞ্জামের দাম ধরে এই খরচের হিসাব হয়েছে।

“এই খরচ ১০ লাখ ডলারের বেশি হলেও আমি অবাক হব না,” গার্ডিয়ানকে বলেছেন সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কের অধ্যাপক ব্রুস ওয়াই লি।

এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞই ট্রাম্পের হাসপাতাল খরচের একটা হিসাব বের করেছেন।

কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার পর গত ২ অক্টোবর ট্রাম্প ওয়ালটার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি হয়েছিলেন। তিন রাত কাটিয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর তিনি হোয়াইট হাউসে ফেরেন।

হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমাদের রয়েছে সেরা চিকিৎসা সরঞ্জাম, আমাদের রয়েছে সেরা ওষুধ।’

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের করোনাভাইরাস নিয়ে ভয় না পাওয়ার আহ্বানও জানান তিনি, যদিও তিনি এড়িয়ে যান যে এই মহামারীতে ইতোমধ্যে দেশটির ২ লাখের বেশি মানুষ মারা গেছে।

গার্ডিয়ান লিখেছে, কোভিড-১৯ আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের যে কারও হাসপাতালে ভর্তি হলে রোগ ছাপিয়ে চিকিৎসা খরচের বিষয়টি তার ভাবনায় আসে, এক্ষেত্রে দেশটিতে একমাত্র ব্যতিক্রম ট্রাম্প।

প্রেসিডেন্ট যে বলেছেন, তাদেরই রয়েছে সেরা ওষুধ আর চিকিৎসা সরঞ্জাম, সেগুলো পেতে হলে কী পরিমাণ খরচা পড়ে, তা জানতে চাইছেন যুক্তরাষ্ট্রের অনেকে।

কমনওয়েলথ ফান্ডের স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা কলিন্স গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘হাসপাতালে যাওয়া আর বিশেষায়িত চিকিৎসা নেয়া একটা দুঃস্বপ্নের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।’

স্বাস্থ্যসেবার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরাই সবচেয়ে বেশি অর্থ দিয়ে থাকে, যদিও দেশটির খুব নাগরিকই জানেন তারা যে চিকিৎসাটা পাচ্ছেন, তার অর্থমূল্য আসলে কত?

বেসরকারি ইন্সুরেন্স কোম্পানিগুলোর মাধ্যমেই চিকিৎসার ব্যয়টা দেন যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ মানুষ।

ট্রাম্পের অবশ্য ‘অসাধারণ’ সরকারি ইন্সুরেন্স রয়েছে, আর প্রেসিডেন্ট হিসেবে চিকিৎসার জন্য নিজের কোনো খরচই করতে হয় না এই ধনকুবেরের।

অধ্যাপক ব্রুস লি ইন্সুরেন্সের তথ্য ঘেঁটে দেখেছেন, গড়পরতা যুক্তরাষ্ট্রের একজন কোভিড-১৯ রোগীর হাসপাতালে খরচা পড়ে ৩ হাজার ৪৫ ডলারের মতো।

তবে এই গড়পরতার মধ্যে ট্রাম্প খাটছেন না, কারণ তার বয়স ছিল বেশি, আর তার অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।

অধ্যাপক লির পদ্ধতিতে, ট্রাম্পের মতো বয়সী একজনের হাসপাতালে থাকার খরচ হয় সাড়ে ৯৩ হাজার ডলারের মতো।

রেজেনেরন কোম্পানির যে অ্যান্টিবডি ককটেল ট্রাম্পকে দেয়া হয়েছিল, তা যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের পাওয়ার সুযোগ এখনো হয়নি।

ট্রাম্পকে যে ওষুধ দেয়া হয়েছে, রেজানেরন কোম্পানির কাছে তার দাম জানতে চেয়ে কোনো ‍উত্তর পাননি অধ্যাপক লি।

তবে অন্য ক্ষেত্রে মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি প্রয়োগে ৯৬ হাজার ৭৩১ কোটি ডলারের মতো ব্যয় হয় যুক্তরাষ্ট্রে। তা হিসাবের মধ্যে ধরলে ট্রাম্পকে যে অ্যান্টিবডি দেওয়া হয়েছে, তার দাম এর চেয়ে বেশিই হবে।

আর যেহেতু ট্রাম্পকে তিনটির বেশি অ্যান্টিবডি ককটেল ডোজ দেয়া হয়েছে, তার যদি চারটিও ধরা হয়, তাহলে খরচা প্রায় ৪ লাখ ডলারের কাছাকাছি দাঁড়ায়।

রেমডিসিভিরও নিয়েছেন ট্রাম্প। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এর পাঁচদিনের কোর্সে খরচ হয় ২ হাজার ৩৪০ ডলার। তবে যুক্তরাষ্ট্রে দাম বেশি, সেক্ষেত্রে ট্রাম্পকে রেমডিসিভির দিতে খরচ হয়েছে ৩ হাজার ডলারের বেশি।

ট্রাম্প সবচেয়ে শস্তা যে ওষুধটি পেয়েছিলেন, তা হল ডেক্সমেথাসোন, এর দাম মাত্র ৫ ডলার।

ট্রাম্প যে হাসপাতালে যেতে এয়ার এম্বুলেন্স ব্যবহার করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য তা একবার ব্যবহারে ৩৯ হাজার ডলার দিতে হয়। ট্রাম্প দু’বার ব্যবহার করেছেন, অর্থাৎ এক্ষেত্রে তার ব্যয় ৭৮ হাজার ডলার।

এছাড়া এক্স রে, সিটি স্ক্যানসহ নানা পরীক্ষার খরচের হিসাব রয়েছে। রয়েছে ট্রাম্পের খাবারের খরচ, যা নিশ্চয়ই গড় মানের ছিল না।

আনুসঙ্গিক অন্য সব খরচ হিসাব করেই এই অঙ্ক কমপক্ষে ১০ লাখ ডলার বলছেন অধ্যাপক লি।

তিনি বলেন, ‘যে রকম চিকিৎসা সেবা প্রেসিডেন্ট পেয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্র তথা বিশ্বের খুবই কম মানুষই পান।’

আর যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ মানুষের যে তা পাওয়ার সুযোগ ঘটে না, সেটাও বললেন এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।

 

সর্বশেষ সংবাদ