ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে বগুড়ায় বামজোটের মিছিল-সমাবেশ

১২ অক্টোবর’২০ বেলা ৪:০০টায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রিয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে সারাদেশে ক্রমবর্ধমান নারী ধর্ষণ-নির্যাতন ও নারীর প্রতি সংহিসতা, নারী ধর্ষণ, নির্যাতন, খুন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাম গণতান্ত্রিক জোট জেলা সমন্বয়ক, বাসদ জেলা আহ্বায়ক অ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি জেলা সভাপতি জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, বাসদ জেলা সদস্য সচিব সাইফুজ্জামান টুটুল, গণসংহতি আন্দোলন জেলা নির্বাহি সমন্বয়কারী আব্দুর রশীদ, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র বগুড়া জেলার সহ-সভাপতি মতিয়ার রহমান, বাসদ জেলা সদস্য, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম বগুড়া জেলা আহ্বায়ক দিলরুবা নূরী। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন সিপিবি সদর উপজেলা সভাপতি সন্তোষ পাল।
সমাবেশের সভাপতি অ্যাড.সাইফুল ইসলাম পল্টু সারাদেশে ক্রমবর্ধমান নারী ধর্ষণ-নির্যাতন ও নারীর প্রতি সংহিসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘দেশে গণতান্ত্রিক আইনের শাসন আজ আর বিন্দুমাত্র অবশিষ্ট নাই। ঘরে-বাইরে সর্বত্র নারীরা আজ চরম নিরাপত্তাহীন। এজন্য দায়ী পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা, পুঁজিবাদী সমাজে নারীকে নানাভাবে ভোগ্যপণ্য হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি। বিজ্ঞাপনে, নাটকে, সিনেমায়, নারী দেহের প্রদর্শন, পর্ণোগ্রাফির প্রসার, ধর্মীয় কূপমন্ডুক চিন্তা, ওয়াজ মাহফিলে নারীর প্রতি অশালীন কটুক্তিপূর্ণ মন্তব্য নারীর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তা ছাড়া অর্থনৈতিকভাবে নারীর স্বাবলম্বী হওয়ায় বাঁধা, নির্ভরশীল মানসিকতা – পুরুষতান্ত্রিকতাকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। ধর্ষণের সুষ্ঠু বিচার না হওয়া, ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি না দেয়া, বিচারের দীর্ঘসূত্রীতা ও বিচারের রায় কার্যকরে বিলম্ব করা, ক্ষমতাসীনদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতা, আইনের ফাঁক ফোকরে ধর্ষণকারী ছাড় পেয়ে যাওয়া ইত্যাদি ধর্ষকদেরকে উৎসাহিত করে চলেছে’।’ তিনি আইনের সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, ধর্ষকদের আশ্রয়দাতাদের আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান।
সমাবেশে জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না বলেন, দেশে যখন ধর্ষণের ঘটনা ক্রমবর্ধমান, নারীরা নিরাপত্তাহীন তখন এক শ্রেণীর ব্যক্তিগণ ধর্ষণকে জায়েজ করতে বলছেন, ধর্ষণ আগেও ছিল, এখনো আছে, তারমানে বুঝাতে চায় ধর্ষণ চিরন্তন বিষয়, এই ব্যক্তিগণ মূলত ধর্ষকদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সমাজে ধর্ষণকে জিইয়ে রাখতে চায়, তাদেরও বিচারের আওতায় নিয়ে আসা উচিত। অন্যদিকে ধর্ষণের বিরুদ্ধে সারাদেশে গড়ে উঠা আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে আন্দোলনকারীদের উপর হামলা করা হচ্ছে। মূলত এই সমস্ত আশ্রয়-প্রশ্রয় ধর্ষকদের বেপোরয়া করে তুলেছে। সেইসাথে, বিচারহীনতা, বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা, গ্রামীণ সালিশে টাকা ও প্রভাব খাটিয়ে ধর্ষণের ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার কারণে ধর্ষণ অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত না হয়ে ক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যম হয়েছে। কাজেই এই আশ্রয়-প্রশ্রয় বন্ধ, পৃষ্টপোষকসহ অপরাধীদের বিচার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরী’। অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন, মানব সভ্যতা রক্ষা করতে হলে, ধর্ষকদের শাস্তির পাশাপাশি, ধর্ষণের উৎস খুঁজে তা দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।