সোনাতলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে চায় অসহায় খাতের আলী

বগুড়া সোনাতলা উপজেলার হাঁসরাজ গ্রামের মৃত ইনছার আলী প্রাং এর পুত্র আলহাজ¦ মো: খাতের আলী বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তার প্রতিবেশি স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা প্রফেসর মো: রেজাউল করিম রেজাকে হামলাকারি, লাঠিয়াল বাহিনীর প্রধান, ভূমি দস্যু বলে অভিযোগ করলেন। অভিযোগ করে খতের আলী বলেন তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচিতে হিন্দুদের জমি জবরদখলের কথা বলে মিথ্যাচার ও ফায়দা লোটার চেষ্টা করেছে। তিনি তার অত্যাচারের কবল থেকে উদ্ধার ও সুষ্ঠু ভাবে জীবন যাপন করার জন্য সকল ধরনের প্রশাসনিক সাহায্য সহযোগিতা কামনা করেছেন।
রোববার সকালে খাতের আলী বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধনের নেতৃত্ব দাতা প্রফেসর মো: রেজাউল করিম রেজা ও আমার বাড়ি একই গ্রামে। উক্ত রেজাগং রা ইতিপূর্বে আমার স্ত্রীর জমি জবরদখলের চেষ্টা করে। বাধা দিলে আমাকে মারপিট করে আহত করে। আবার তারা উক্ত জমি জবরদখল করতে আসলে বাধা দিলে আবারো হুমকি ধামকি ও মারপিট করে। এসব ঘটনায় পৃথকভাবে সোনাতলা থানায় জিডি ও অভিযোগ প্রদান করা হয় যা তদন্তাধীন। গত ২৮ ডিসেম্বর মানববন্ধন কর্মসূচির প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন সেদিন আমাকে পিটিয়ে আহত করেছে রেজাগং রা। এঘটনায় থানায় আবারো অভিযোগ প্রদান করা হয়েছে। রেজাউল করিম রেজা ও তার দলবল সহ ইতিপূর্বে ভুয়া কাগজপত্র সৃষ্টি করে ও জোরপূর্বক অনেকের সম্পত্তি বেদখল করেছে। সেই ভাবে আমার স্ত্রীর জমিও বেদখলের চেষ্টা করছে। এর পূর্বে রেজা তার চাতালের মিল ঘর করার সময় ঘরের দক্ষিণ পার্শে থাকা আমার জমি হতে হাফ শতক জমি জোরপূর্বক নিয়ে ঘর করেছে। তারা নিজেরাই ভূমি দর্স্যু, জমি দখল কারী গ্রাম্য সন্ত্রাস ও লাঠিয়াল বাহিনীর প্রকৃত লোক। উক্ত রেজা ও তার ভাই ভাতিজা চাচাগণ মিলে দীর্ঘদিন যাবৎ আমার বাড়ির জমি, বিভিন্ন ফসলী জমি দখলে ব্যর্থ হয়ে গ্রামের হিন্দু মুসলমানদের লেলিয়ে দিয়ে আমার কয়েকটি জমি দখলের চেষ্টা করছে এবং আমার নামে বিভিন্ন কুৎসা ও বদনাম প্রচার করে লোক সমাজের নিকট হেয় প্রতিপন্ন করছে। আমাকে ধ্বংশের চেষ্টা চালিয়ে গ্রাম থেকে উচ্ছেদ এমনকি দুনিয়া থেকে উঠিয়া দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। তিনি বলেন, একই গ্রামে পাশাপাশি বাড়ি শ্রী গিরিন্দ্র মোহন দাস এর বাড়ির পিছনে থাকা আমার ০৫ শতক ভিটা জমিতে বিভিন্ন জাতের গাছপালা রোপন করি যা ২০০৪ সাল পর্যন্ত ভোগ দখল করে খাওয়া অবস্থায় উক্ত জমিটি ‘রেজার’ পরিবারের লোকেরাই গিরিন্দ্রকে জবর দখল করার চেষ্টা করে ফলে দফায় দফায় মারামারি ও কোর্টে মামলা হয়, মামলাগুলো নিস্পত্তি হয়েছে। এক পর্যায়ে গিরিন্দ্র ২০০৫ সালে দলিল অস্বীকার করে সোনাতলা সহকারী জর্জ আদালত বগুড়ায় মামলা করে, আমি রায় পাই এবং হেরে গিয়া গিরিন্দ্র আপিল করে। আপিল না মঞ্জুর হলে হাইকোর্টে রিভিশন করে। গত ২৯/১১/২০২০ ইং তারিখে রিভিশন ডিসমিস হয়। এই সংবাদ পেয়ে হাইকোর্টের রায় উপেক্ষা করে জমিটি আবার জবর দখল করার উদ্দেশ্যে এবং ‘রেজারা’ যে জমি নিয়ে কলহ করছে তার কোনো দলিল না থাকায় মূল ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা সহ ব্যক্তিস্বার্থ হাছিলের উদ্দেশ্যে সনাতন ধর্মালম্বীদের সঙ্গে নিয়ে ব্যানার প্রস্তুত করে উক্ত মানবন্ধন করেছে। তাদের কুপরামর্শে মানববন্ধন করার ১ ঘন্টা পরে গিরিন্দ্র এর ছেলেরা আমার উক্ত ০৫ শতক জমিতে থাকা গাছপালা ও ডাল কাটে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করেছি। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ মামলাসহ আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে প্রায় এক কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আমার জানামতে উক্ত রেজাউল করিম রেজা ২০১০ সাল পর্যন্ত আজিজুল হক কলেজে ছাত্র অবস্থায় জামাত-শিবিরের একনিষ্ঠ কর্মী ছিল। পরবর্তিতে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় সোনাতলা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের একটি পদে থেকে বিভিন্ন পন্থায় টাকা পয়সা উপার্জন করে ২০১৮ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছে। রেজা ও তার পরিবারের লোকদের দাপটে এলাকার মানুষ সত্য কথা বলতে সাহস পায় না। আমি তাদের অত্যাচারের কবল থেকে উদ্ধার ও সুষ্ঠ ভাবে জীবন যাপন করার জন্য সকল ধরনের প্রশাসনিক সাহায্য সহযোগিতা কামনা করছি।

সর্বশেষ সংবাদ