সারাদেশে অব্যাহত খুন ধর্ষণ রুখে দাঁড়ান নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার হোন

আজ ৫ জানুয়ারি ২০২১ সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের ৩৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে বেলা ১২:০০ টায় শহরে র‌্যালী শেষে সংগঠন কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম বগুড়া জেলা আহŸায়ক দিলরুবা নূরী। সভায় বক্তব্য রাখেন বাসদ জেলা আহ্বায়ক অ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম জেলা সংগঠক রাধা রানী বর্মন, আকলিমা খাতুন, রেনু বালা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জেলা সভাপতি ধনঞ্জয় বর্মন, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম জেলা সংগঠক চামেলী, রিতু খাতুন, পূজা প্রামানিক প্রমুখ।
আলোচনাসভার সভাপতি দিলরুবা নূরী বলেন, “আজ থেকে ৩৭ বছর আগে নারীজাগৃতি, নারীমুক্তির লক্ষ্যে এবং বৈষম্যহীন সমাজ নির্মাণের লড়াইকে বেগবান করার উদ্দেশ্যে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম আত্মপ্রকাশের পর থেকে স্বৈরাচার-সাম্প্রদায়িকতা, অশ্লীলতা, অপসংস্কৃতি, নারীর প্রতি সহিংসতা, রাষ্ট্র কর্তৃক নারী নির্যাতন ও নারীর প্রতি সকল ধরণের বৈষম্য-নির্যাতনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে। নারীর মর্যাদাপূর্ণ জীবন গড়তে নারীসমাজকে উদ্বুদ্ধ করছে। সমাজ-সচেতনতা বিকাশ, প্রতিবাদ-প্রতিরোধের সংগ্রামের পথকে বেগবান করছে।”
অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম পল্টু বলেন, “বাংলাদেশে নারী-শিশুর উপর নির্যাতন-সহিংসতা-ধর্ষণ-হত্যা পূর্বের যে কোন সময়ের তুলনায় বহুগুণে বেড়েছে। একটি ঘটনা বর্বতায়, বিভৎসতায় আগেরটাকে ছাপিয়ে যাচ্ছে। এসব ধর্ষণ, নারী নিপীডনের ভয়াবহতা আমাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে হানাদারবাহিনী দ্বারা সংঘটিত নারী নির্যাতনকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। স্বাধীনতার ৫০ বছরের দোরগোড়ায় এসেও দেশের কোনো একটি জায়গা নেই সেখানে নারী নির্যাতন ঘটে না। ঘরে, বাইরে, পাহাড়ে, সমতলে, পথে, গণপরিবহনে, কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সকল স্থানেই নারী-শিশুরা নির্যাতনের শিকার হোন। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য মতে দেশে গত সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ৯ মাসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৯৭৫ টি, তার মধ্যে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ২০৮টি। ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ৪৩ টি। ধর্ষণের শিকার ১২ জন আত্মহত্যা করেছেন। পত্রিকায় আসা খবর অনুযায়ী এই সংখ্যা; মূলত প্রকৃত ঘটনা আরো অনেক বেশি ও ভয়াবহ। আর অন্যদিকে দেশে চলছে বিচারহীনতার রেওয়াজ। নারী-শিশু ধর্ষণ-নির্যাতনের ১০০ টি মামলার ৯৭ টির-ই কোন বিচার হয়না। কেবল মাত্র ৩ টি মামলার বিচার হয়। এই বিচারহীনতার রেওয়াজে ক্ষমতা ও অর্থের দাপটে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ক্ষমতাকেন্দ্রিক লুটপাটের দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতি বিচারহীনতার রেওয়াজকে উসকে দেয়।”
রাধা রানী বর্মন বলেন,“ধর্ষক পশু নয়; আমাদের থেকে স্বতন্ত্র কোন জীব না। কোন মানুষ ধর্ষক হয়ে জন্মগ্রহণ করে না; সমাজের নানা অসঙ্গতিপূর্ণ আচরণবিধির মধ্যেই সে ধর্ষক হয়ে ওঠে। ধর্ষকের অন্যতম প্রধান কারণ সমাজে নারী-পুরুষের অধিকারের অসমতা। সমাজে নারীকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা না দেওয়া। ৫০ বছর আগে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে দেশের মানুষ যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামজিক ন্যায়বিচারের চেতনায়।”
অন্যন্য নেতৃবৃন্দ সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান ধর্ষণের বিরুদ্ধে, ন্যায় বিচারের দাবিতে। নারী পুরুষের সর্বাত্মক প্রতিবাদ প্রতিরোধের মাধ্যমে নারীর অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।