২০০ বছরের বেশি সময় পর এমন ঘটনা দেখল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবন বা ক্যাপিটলে স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থকদের ব্যাপক বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ইউএস ক্যাপিটল হিস্টোরিক্যাল সোসাইটির বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, সর্বশেষ ব্রিটিশদের সঙ্গে ১৮১২ সালের যুদ্ধের সময় ক্যাপিটল ভবনে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।

ব্রিটিশদের সঙ্গে যুদ্ধের ওই সময়টায় ক্যাপিটল ভবনটি ছিল নির্মাণাধীন। ব্রিটিশ ভাইস অ্যাডমিরাল স্যার আলেকজান্ডার ককবার্ন ও মেজন জেনারেল রবার্ট রসের নেতৃত্বে ব্রিটিশ বাহিনী ১৮১৪ সালের আগস্টে ওয়াশিংটন ডিসিতে হামলার সময় ক্যাপিটল ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে বৃষ্টির কারণে ভবনটি পুরোপুরি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায়।

এর আগের বছর আমেরিকানরা ইয়র্কে আপার কানাডার রাজধানী পুড়িয়ে দিয়েছিল। এরই প্রতিশোধ নিতে হোয়াইট হাউসসহ ওয়াশিংটন ডিসির বিভিন্ন এলাকায় আগুন ধরিয়ে দেয় ব্রিটিশ সেনারা।

তখনো কানাডার অস্তিত্ব ছিল না। একাধিক ব্রিটিশ উপনিবেশের সমন্বয়ে ওই এলাকা গড়ে ওঠে।

এদিকে গতকাল ক্যাপিটল দখলের ঘটনার পর এক বিবৃতিতে ক্যাপিটল হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি বলেছে, ‘মার্কিন ক্যাপিটল শুধু একটি ভবন নয়—এটি মার্কিন গণতন্ত্র এবং আমাদের জীবনধারার প্রতিমূর্তি।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘আমরা আইনের শাসন মানা জাতি। আর, ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর হলো আমাদের সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্রের অন্যতম মৌলিক নিদর্শন।’

যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতারা যখন গত নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের জয় আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করার জন্য অধিবেশনে বসেছিলেন, সেই সময় স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শত শত সমর্থক মার্কিন আইনসভা কংগ্রেসের ভবন ক্যাপিটলে ঢুকে পড়ে। কয়েক ঘণ্টা কংগ্রেস ভবন কার্যত দখল করে রাখার পর বিক্ষোভকারীরা ধীরে ধীরে ক্যাপিটল প্রাঙ্গণ ছেড়ে বাইরে চলে যেতে থাকে।

এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১২ ঘণ্টার কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবনে স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থকদের অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে।