খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় উপজেলায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলা কলেজ গেট সংলগ্ন বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের পাশে এ সংঘর্ষ হয়।

দীঘিনালা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. মেহেদী আলম অভিযোগ করে বলেন, ১৪ নভেম্বর খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ হতে দীঘিনালা উপজেলা ও কলেজ ছাত্রলীগের কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। পদবঞ্চিতরা এ কমিটির বিরোধিতা করে আসছিলেন। বুধবার পদবঞ্চিতরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে মানিক, ইমন শিকদার ও সাংবাদিক নূর হোসেনসহ তিনজন আহত হয়। অপরদিকে বোয়ালখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মান্না মুৎসুদ্দি সাংবাদিক নূর হোসেনের ওপরও হামলা চালায়। আহতরা খাগড়াছড়ি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এটি উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্দেশে একটি অতর্কিত হামলা।

বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে মান্না মুৎসুদ্দি বলেন, আমি ঘটনাস্থলে ছিলামই না। এটি মিথ্যা ও বানোয়াট একটি বক্তব্য। আমি এ সময় আমার নিজ বাসায় দুপুরের খাবার খাচ্ছিলাম। তাছাড়া নূর হোসেন গত ৬ নভেম্বর দীঘিনালা উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক। আমি ওই কমিটির সদস্য। তিনি সাবেক কবাখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তবে তিনি সাংবাদিক এটা আমি জানতাম না।

দীঘিনালা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবলু কুমার দে বলেন, গত ৬ নভেম্বর উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সম্মেলনের তারিখে সম্মেলন না করে বিতর্কিত, অছাত্র ও বিবাহিত লোকজন দিয়ে প্রেস কমিটি করে জেলা ছাত্রলীগ। এ নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হলে দীঘিনালা উপজেলা আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড স্থগিত করে। আমরা উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ এ সিদ্ধান্তকে সাদরে গ্রহণ করি। কিন্তু আজ বিতর্কিত কমিটির সভাপতি মো. মেহেদী আলম, ৬ নভেম্বর সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক নূর হোসেন ও দীঘিনালা কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মানিকের নেতৃত্বে তার দলবল নিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। এতে মো. কায়েস, জয়, মহিন সহ আমাদের চার-পাঁচ জন নেতাকর্মী আহত হয়।

এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহেদ চৌধুরী বলেন, সংঘর্ষের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। জেলা ছাত্রলীগের পরামর্শক্রমে এ বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দীঘিনালা উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নয়ন দাশ বলেন, উপজেলা ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ বাঁধলে আমরা উভয় পক্ষকেই বাঁধা দেই। এতে দুই পক্ষের কয়েক কর্মীর মধ্যে হাতাহাতি হয়।

এদিকে মঙ্গলবার রাতে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দীঘিনালা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দেন মো. হেলাল।