পদ্মা নদীর চরাঞ্চল এখন সবুজের সমারোহ

মোঃ হায়দার আলী, গোদাগাড়ী, রাজশাহীঃ রাজশাহী  জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার  বুক চিরে বয়ে যাওয়া পদ্মা  নদীর বিস্তীর্ণ এলাকার চর জুড়ে ফলেছে সোনালি ফসল। পদ্মার  চরাঞ্চল এখন সবুজের সমারোহ। শীতকালীন নানা সবজিতে ভরে ওঠেছে চরাঞ্চল। উপজেলার রেলওয়ে বাজার ঘাট সংলগ্ন মাঠ, মাদারপুর, মাটিকাটা, নদীর ওপারে মধ্যচর, মানিকচক প্রভূতি এলাকা  দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা নদীর চরের বেলে দোআঁশ মাটিতে চাষিরা ফলিয়েছেন সোনার ফসল। ওই চরাঞ্চলে, টমেটো, পেঁয়াজ, রশুন, ধনে, পটল, বেগুন, ভুট্টাসহ  সবজির চাষ করেছে এখানকার কৃষক। হঠাৎ করে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানী বন্ধ করে দেয়ায় বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশী লাভের আশায় বুক বেঁধে ব্যপকহারে পেঁয়াজ চাষ করেছিল কিন্তু  শ শ ট্রাক  পেঁয়াজ আমদানি করায় এখান কৃষকদের মাথায়। যখন জমি থেকে পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে তখনই ভারত পেঁয়াজ আমদানি করায় কৃষকদের উৎপাদ ব্যয় উঠবে না। অপর দিকে
 সবজির দাম কম হওয়ায় তাদের ক্ষতি হচ্ছে।
এখন টমেটো, বাঁধাকপি, বেগুনসহ নানা তরতাজা সবজিতে ভরে উঠেছে মাঠ। এই চরে পেঁয়াজ, রসুন, মুসরি, মাসকলাইসহ আরও নানা ফসল চাষ করেছেন চাষিরা।কৃষকরা জানিয়েছেন, বেলে দোআঁশ মাটিতে সার দেয়ার প্রয়োজন হয় না। পোকামাকড়েরও আক্রমণ কম। তাই খুব একটা কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন পড়ে না। শুধু পানি পেলেই চরে সব ফসলের আবাদ ভাল হয়। কিন্তু শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে তারা সবজির দাম পান কম। এখন চরে সৌর বিদ্যুৎ আসার কারণে সেচের যোগানও হচ্ছে।
চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের জোহুরুল ইসলাম মেম্বার বলেন,  নদী বড় থাকলে নৌকায় তাদের যোগাযোগ সহজ হয়। কিন্তু তখন পানি ঢুকে তাদের চাষের জমি কমে যায়। আবার পানি নেমে গেলে যে পলি পড়ে তাতে সবজির চাষ ভাল হয়। কিন্তু তখন নৌপথ কমে গিয়ে বেড়ে যায় পায়ে হাঁটার পথ। এই দুর্গম চর থেকে তাদের সবজি ওপারের বাজারে নিতে নিতেই তাজা সবজি আর তাজা থাকে না। তখন পাইকারি ক্রেতারা দাম কম দেন। আবার অনেক ব্যবসায়ী চরে সবজি কিনতে আসেন। কিন্তু বিশাল চর আর নদী পাড়ি দিয়ে সবজি নিয়ে যেতে হবে বলে তাদের কম দাম দেয়া হয়। এতে তাদের ক্ষতি না হলেও লাভের পরিমাণ কমে যায়।
একই এলাকার স্কুলের প্রধান শিক্ষক আসগর আলী বলেন,  নদীর ওপারে যদি টমেটোর মন যখন ১৮শ টাকা মন হয়, তখর  এপারে ১২ শ টাকা মন । একটা নদীর এপার-ওপারে দামের এমন পার্থক্য হয। তিনি আরও গ্রীষ্মকালে পানি কমে নদী ছোট হয়ে আসে। তখন সবজি গরু-মহিষের গাড়ি অথবা ট্রলিতে করে নিয়ে চর পাড়ি দিতে হয়। কিন্তু চরের মাঝে যদি আবার ছোট নদী থাকে তাহলে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। এসব ভোগান্তির কারণেই তারা ভাল সবজি উৎপাদন করলেও ভাল দাম পান না।
উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউপি চেয়ারম্যান সানাউল  হক বলেন, চরের সবজি খুব সুস্বাদু। নদীর ওপারের সবজি আর এপারের সবজির স্বাদের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত। সার-কীটনাশক প্রয়োগ না করায় চরাঞ্চলের সবজির বিষমুক্ত হওয়ায় স্বাদ ও মান ভাল হয়। শুধু পানি পেলেই চরে খুব ভাল সবজি উৎপাদন হয়। কিন্তু এত ভাল সবজি উৎপাদন করেও চাষিরা ভাল মূল্য পান না। নদীতে  জেগে ওঠা ওইসব চরের  জমিতে এখন সারা বছর ধরে নানা পদের সবজি উৎপাদন করা হচ্ছে । যা স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাজারজাত হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
এ অঞ্চলের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে এক সময় চরাঞ্চলের জমিতে শুধু ধান, গম, কলাই, ভুট্টা চাষ হতো। কিন্তু এখন সেই জমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে, পেয়ারা বাগান, আম বাগান, কলা বাগানসহ হরেক রকম সবজি চাষ। বিশেষ করে শীত মৌসুমে এখন ভরেছে আগাম সবজিতে। কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে নানা প্রকার সবজি চাষাবাদ করে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করছে।