যানজট নিরসনের নামে শহরে জনগণের দুর্ভোগ-হয়রানী বন্ধ কর

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি: আজ ০৯ জানুয়ারি ২০২১ বেলা ১১:৩০টায় বাসদ বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে যানজট নিরসনের নামে শহরে জনগণের দুর্ভোগ-হয়রানী বন্ধ করার দাবিতে মানববন্ধন-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাসদ জেলা আহ্বায়ক অ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ বগুড়া জেলা সদস্য মাসুদ পারভেজ, শহিদুল ইসলাম, দিলরুবা নূরী, শ্যামল বর্মন, রাধা রানী বর্মন প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত ০১ জানুয়ারি থেকে প্রশাসন সাতমাথার যানজট নিরসনে যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তাতে সমস্যা দূরীভূত হয়ই নি বরং সমস্যাকে আরো জটিল করেছে। শুধুমাত্র সাতমাথায় ব্যটারী চালিত রিক্সা চলাচল বন্ধ থাকলেও মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। শহরে রিক্সা ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় কাজ সাড়ে অধিকাংশ মানুষ, সেই মানুষ তাদের প্রয়োজনে রিক্সা ব্যবহার করতে পারছে না, প্যাডেল চালিত রিক্সা প্রয়োজনীয়তার তুলনায় খুবই সামান্য।
অন্যদিকে দৈনিক করতোয়া পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী বগুড়াতে প্রায় ৩০ হাজার ব্যাটারী চালিত রিক্সা চলাচল করে। ৩০ হাজার রিক্সা চালকের পরিবার প্রতি ৫ জন মানুষ যুক্ত থাকলে প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ সরাসরি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্র্রস্ত হচ্ছে। সাতমাথা ক্রস করতে না পারায় তাদের দৈনিক আয় অর্ধেকে নেমে আসছে। অথচ যে মানুষটি ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে একটি রিক্সা কিনেছে তার সপ্তাহে কিস্তি ১২০০ টাকা। তারা কিস্তি পরিশোধ করতে বাধ্য অথচ আয় নাই। দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলো পড়েছে প্রচণ্ড রকম বিপাকে।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, যানজট শুধুমাত্র রিক্সার কারণে হয়না। অপরিকল্পিত নগরায়ন, মূল শহরের মধ্যদিয়ে রেললাইন চলে যাওয়া, প্রয়োজনীয় জায়গায় ওভারব্রিজ না থাকা, শহরের আয়তন অনুযায়ী ২৫% রাস্তা না থাকা, শহরের কোথাও রিক্সা পার্কিংএর ব্যবস্থা না থাকা, অথচ শহরের প্রাণ কেন্দ্রে সমস্ত মার্কেট-বাজার স্থাপন, শহরের নাগরিকের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক রিক্সার পরিমাণ নির্ধারণ না করা এবং অনুমোদন না দেওয়ার ফল হলো এই যানজট। অন্যদিকে অপরিকল্পিতভাবে রাস্তার উপরে কার-মাইক্রো-মটরসাইকেল পার্কিং করা হয়ে থাকে। ভ্রাম্যমান হকার্সদের জন্য সুনির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ না করা, যার ফলে ফুটপাত শুধুমাত্র মানুষের হাঁটার জন্য ব্যবহৃত না হওয়াও এই যানযট বৃদ্ধি করে। কাজেই এই যানজট দূর করতে হলে এই সমস্ত সমস্যা দূর করতে হবে নাহলে এই যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাওয়ার সুযোগ থাকেনা পৌরবাসীর। এই সমস্ত সমস্যার দায় শুধুমাত্র রিক্সার উপর চাপিয়ে দিলে তা অন্যায় সিদ্ধান্ত হয়। নেতৃবৃন্দ সার্বিক নাগরিক জীবনের ভোগান্তি দূরীভুত করতে অবিলম্বে শহরের চাহিদা অনুযায়ী ব্যাটারী চালিত রিক্সাকে লাইসেন্স দিয়ে চলাচলের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান। যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।