গাইবান্ধা পৌরসভা নির্বাচনী আমেজে উৎসবমুখর পরিবেশ

আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ দুয়ারে ভোট। হাতে সময় নেই। আসি আসি করছে ভোটের মাহেন্দ্রক্ষণ ১৬ জানুয়ারি। মাঘের ঠিক শুরুতেই কনকনে শীতের সকালে ভোটকেন্দ্রে দেখা মিলবে ভোটারের দীর্ঘসারি। গাইবান্ধায় ৮ মেয়র, ১৭ সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর এবং ৪১ জন সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেয়ার পর থেকেই অনানুষ্ঠানিকভাবে ভোটারের দুয়রে পা রাখতে শুরু করেন। গত ৩০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর ভোটের পালে জোরেশোরে হাওয়া লেগেছে গাইবান্ধা পৌরসভাজুড়ে। প্রতীক পেয়ে হিমেল হাওয়ায় নৌকা, ধানের শীষ, রেলইঞ্জিন, নারকেল গাছ, মোবাইল ফোন, চামুচ, জগ আর ক্যারাম বোর্ড মার্কা নিয়েমেতে উঠেছেন আট মেয়র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। এ ছাড়া অন্যান্য কাউন্সিলর প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরাও উল্লসিত হয়ে ওঠেন। প্রতীক বরাদ্দের পর শুরু হয় আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। প্রচারণা শুরুর পর থেকে নির্বাচনী আমেজ সৃষ্টি হয় শহরের সর্বত্র।
এদিকে পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের দুই বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নৌকা ও বিএনপির ধানের শীষের সাথে আওয়ামী লীগের তিন বিদ্রোহীর ভোটযুদ্ধ নির্বাচনী পরিবেশকে করে তুলেছে উৎসবমুখর। মেয়র আর কাউন্সিলর প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের শ্লোগানে শ্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে গোটা গাইবান্ধা শহর। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দলীয় ও স্বতন্ত্রসহ ৮ মেয়র প্রার্থী এবং তাদের কর্মী-সমর্থকরা নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত গণসংযোগ, উঠোন বৈঠক, জনসভা ও পথসভা করে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ ছাড়া সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর এবং সাধারণ কাউন্সিলরসহ ৫৮জন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরাও বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ঘুরে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।
গাইবান্ধা পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের শাহ্ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবীর (নৌকা), বিএনপির মো. শহিদুজ্জামান শহীদ (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র মো. আনওয়ার-উল-সরওয়ার (রেল ইঞ্জিন), মতলুবর রহমান (নারিকেল গাছ), মো. শামছুল আলম (মোবাইল ফোন), মো. আহসানুল করিম (চামুচ), মো. মির্জা হাসান (জগ) এবং ফারুক আহমেদ (ক্যারাম বোর্ড) প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অংশ নেয়ায় আওয়ামী লীগ থেকে আহসানুল করিম, ফারুক আহমেদ ও মতলুবর রহমানকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হওয়ায় উজ্জিবিত দলীয় নেতা-কর্মীরা ব্যস্ত রয়েছেন প্রচারণায়। প্রার্থী ও তাদের সমর্থক কর্মীরা কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। প্রার্থীদের পোস্টারে ছেয়ে গেছে পৌর এলাকার অলিগলি। দুপুরের পর মাইকে প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চেয়ে চলছে জোর প্রচারণা। এবার গাইবান্ধা পৌরসভা নির্বাচনে ৩১টি ভোটকেন্দ্রের ১৫৩টি ভোটকক্ষে ৫১ হাজার ৩শ’ ৮৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরমধ্যে এরমধ্যে পুরুষ ২৪ হাজার ৫শ’ ৯০ জন ও মহিলা ২৬ হাজার ৭শ’ ৯৭ জন।