চাঙ্গা হচ্ছে শাজাহানপুরে বিএনপি’র সাংগঠনিক কার্যক্রম

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: নিরবতা কাটিয়ে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় চাঙ্গা হচ্ছে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সাংগঠনিক কর্মকান্ড। নিষ্প্রাণ দলীয় কার্যলয়টি নেতা-কর্মিদের উপস্থিতিতে অনেকটাই সজীব হয়ে উঠেছে। কার্যালয়ের ভিতরে-বাইরে চলছে কেন্দ্রিয় কমিটি ঘোষিত কর্মসূচি। এছাড়াও জেলা ও উপজেলা কমিটি কর্তৃক গৃহীত কর্মসূচিও পালিত হচ্ছে। এতে তৃণমূল নেতা-কর্মিদের হতাশা কাটিয়ে উঠছে। তারা নতুন দিনের স্বপ্ন বুনছেন।
২০১২ সালে শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপি’র পূর্ণাঙ্গ কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে ফজলুল হক রতনকে আহ্বায়ক এবং আবুল বাশারকে সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ২০১৫ সালে ফজলুল হক রতন মৃত্যু বরণ করলে আহ্বায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করেন আবুল বাশার। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়ায় ২০১৯ সালের মার্চে আবুল বাশারকে বহি:স্কার করা হলে নেতৃত্ব শূণ্য হয়ে পড়ে শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপি। একদিকে নেতৃত্ব শূণ্যতা অপরদিকে দীর্ঘদিন সরকারে না থাকায় দলটির সাংগঠনিক শক্তি ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ে। মূলত: ২০১৪ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন ও প্রতিহত করতে গিয়ে শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপি’র নেতা-কর্মিরা একের পর এক মামলা হামলার শিকার হন। অনেকে কারাবন্দি হন। এতে দিশেহারা হয়ে পড়ে সংগঠনটির নেতা-কর্মি ও সমর্থকরা। মামলা, হামলা, গ্রেফতারের প্রতিবাদে প্রথম দিকে বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ, ঝটিকা মিছিল করলেও সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে এক পর্যায়ে তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে প্রায় ৬ বছর শাজাহানপুর উপজেলায় প্রকাশ্যে বিএনপি’র সাংগঠনিক কোন কর্মসূচি দেখা যায়নি। এমতাবস্থায় সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল করতে ২০১৯ সালের অক্টোবরে আব্দুল হাকিম মন্ডলকে আহ্বায়ক এবং ডা. বজলুর রহমান নিলুকে সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
এ পর্যায়ে শুনশান নিরবতা ভেঙ্গে নেতা-কর্মিরা দলীয় কার্যালয়ে ওঠাবসা শুরু করেন। তাদের পদচারণায় সাংগঠনিক কাজে প্রাণের সঞ্চার হয়। করোনাকালে দলের ২ শতাধিক কারাবন্দী নেতা-কর্মির অসহায় পরিবারের কাছে তারেক রহমান প্রদত্ত আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেয় এবং তাদের খোঁজ খবর নেয় উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ। স্থানীয় ভাবে তহবিল সংগ্রহ করে খাদ্য সহায়তা নিয়ে করোনায় কর্মহীন তৃণমূলের দু:স্থ নেতা-কর্মিদের পাশে দাঁড়ায়। তাদের মাঝে ঈদ সামগ্রি এবং শীতবস্ত্র বিতরণ করে। করোনায় মৃত্যুবরণকারী নেতা-কর্মিদের রুহের মাগফেরাত কামনা এবং আক্রান্ত নেতা-কর্মিদের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। এছাড়া দলের প্রতিষ্ঠাতা বার্ষিকী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও শাহাদত বার্ষিকী, চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তির দাবি, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মামলা প্রত্যাহারসহ কেন্দ্র ঘোষিত নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে সংগঠনটি। শুধু তাই নয়, আলাপ আলোচনার মাধ্যমে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে আমরুল, গোহাইল, খরনা, চোপীনগর এবং খোট্টাপাড়া ইউনিয়নে বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছে। বাকি ৪ ইউনিয়নে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলমান। সব মিলিয়ে নিষ্ক্রিয়তা কেটে শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপি এখন অনেকটাই সক্রিয়। সাংগঠনিক কর্মসূচিকে ঘিরে নেতা-কর্মিদের উপস্থিতিতে শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়টি থাকছে মুখরিত।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বগুড়া জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও শাজাহানপুর এবং গাবতলী উপজেলা শাখার দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতা এম.আর ইসলাম স্বাধীন জানিয়েছেন, শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক কর্মকান্ড অনেকটাই সক্রিয়। ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড কমিটিতে স্থান পেতে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। বিএনপি’র সদস্য হতে পারলে নিজেকে গর্বিত ও ধন্য মনে করছেন তারা। তিনি আরও বলেন, বিএনপি’র নীতি-আদর্শ আর উন্নয়ন এ এলাকার মানুষের রক্তে মিশে আছে। তাই সরকার যতই দমন-পীড়ন চালাক না কেন বগুড়ায় বিএনপি’র ঘাঁটি অটুট থাকবে।