রাবি ভিসির অপসারণে দাবিতে সংবাদ সম্মেলন,৭ দিনের অল্টিমেটাম

রিফাত ইসলাম, রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য, উপ-উপচার্যসহ দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অপসারণে দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ ও রাকসু আন্দোলন মঞ্চের নেতারা।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট সংলগ্ন আমতলায় ‘সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুধী ঐক্য’ ব্যানারে তারা এ সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসান মিলন লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমরা “অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়” ব্যানারে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ভিসি, প্রো-ভিসিসহ বর্তমান প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন ব্যক্তির বর্গের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলন করে আসছি। শিক্ষার্থীদের এই ধারাবাহিক আন্দোলনের ফলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইউজিসিকে তদন্ত করার ভার দেয়।ইউজিসির তদন্ত কমিটি সরেজমিনে দু’দফা তদন্ত করে ভিসি, প্রো-ভিসি ও রেজিস্ট্রারসহ বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে ২৫ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়।তদন্ত কমিটি ২০ ও ২১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রনালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রতিবেদনটি জমা দেয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের জন্য তিন ব্যক্তিকে দায়ী করেন। তারা হলেন ভিসি, প্রো-ভিসি ও রেজিস্ট্রার।

“আমরা সংবাদ মাধ্যমে এও জনতে পেরিছি যে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা মনে করেন উপাচার্যকে স্ব-পদে বহাল রেখে বিশ্ববিদ্যালয় সঠিক ভাবে পরিচালনা করা সম্ভব না। কিন্তু প্রমাণ পাওয়া সত্বেও ভিসি, প্রো-ভিসিকে অপসারণ করার কার্যকর কোন পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছি না। যা আমাদেরকে আশাহত করেছে।”

“এত দুর্নীতি ও অনিয়ম করার পরে তাদের শিক্ষকতা করারও কোনো অধিকার নেই। তাই দ্রুত অভিযুক্ত সকল ব্যক্তিকে প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অপসারণ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হোক। আগামী ৭ দিনের মধ্যে আমাদের দাবি মেনে নিতে হবে। নয়তো রাবি বাঁচাও আন্দোলনে লাগাতর কর্মসূচির দিকে যেতে বাধ্য হবো আমরা।

সাংবাদিকদের প্রশ্ন উত্তরে উপস্থিত নেতারা বলেন, এভাবে একটা সায়ত্ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় চলতে পারে না। এমন দুর্নীতিতে জর্জরিত প্রশাসনের অধিকার নেই পদে বহাল থাকা। আমরা দ্রুত অভিযুক্ত সকলের চাই। সেই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক সেই দাবিও জানান তারা।
এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন– বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মুরশিদুল আলম, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক রাকিব হাসান ও বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ প্রমুখ।

সর্বশেষ সংবাদ