নন্দীগ্রামে আলুর বাম্পার ফলন ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে রাস্তাঘাটে

নাজমুল হুদা, নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার নন্দীগ্রামে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। আলুর বর্তমান বাজারমূল্যে কৃষকরা খুশি রয়েছে। মাঠের আলু এখন ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে গ্রামের রাস্তাঘাটে। সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা অপরূপ এই বাংলাদেশ। এদেশের মাটিতে সবধরণের ফসল ফলানো হয়। তেমনি নন্দীগ্রাম উপজেলার মাটিতেও সবধরণের ফসল ফলানো হয়ে থাকে। এ উপজেলার ফসলি জমির মাটিতে উর্বরশক্তি অনেক বেশি থাকায় বছরে ৩ বার ধানের চাষাবাদের পাশাপাশি রবিশস্যর চাষাবাদ করা হয়। এবারো তাই হয়েছে। আমন ধান কাটার পরেই রবিশস্যর চাষাবাদ শরু করা হয়। এবারের রবি মৌসুমে উপজেলায় ৪ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ১ লাখ ২১ হাজার ৫শ’ মেট্রিকটণ আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো। কিন্তু ৩ হাজার ৪শ’ ৮০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষাবাদ করা হয়েছে। মাঠের জমি থেকে আলু তোলার কাজ পুরোদমে চলছে। এদিকে আলুর পাইকাররা হাট-বাজারে না গিয়ে বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে রাস্তাঘাট থেকে আলু ক্রয় করছে। কৃষকরাও গ্রামে থেকেই সুবিধাজনকভাবেই আলু বিক্রয় করতে পারছে। বর্তমান আলুর পাইকারী বাজারমূল্য ১০ থেকে ১২ টাকা কেজি। এ উপজেলায় ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, এস্ট্রিকস ও পাকড়ি জাতের আলু চাষ হয়। উপজেলার বীরপলি গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন ১০০ বিঘা জমিতে আলুর চাষাবাদ করে। মুরাদপুর গ্রামের কৃষক রণজিৎ কুমার ৩০ বিঘা জমিতে আলুর চাষাবাদ করেছে। রিধইল গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম ৫ বিঘা জমিতে আলুর চাষাবাদ করে ও কাথম গ্রামের কৃষক মহন্ত কুমার সাড়ে ৯ বিঘা জমিতে আলুর চাষাবাদ করেছে। তারা জানিয়েছে, এবারো আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। বিঘা প্রতি ১২০ থেকে ১৩০ মণ হারে আলুর ফলন হচ্ছে। কৃষকরা আলুর চাষাবাদকে লাভজনক চাষাবাদ হিসেবে গণ্য করছে। কারণ আলুর ভালো ফলন হলে বিঘা প্রতি ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা লাভ হয়। এজন্য কৃষকরা আলুর চাষাবাদে ব্যাপক আগ্রহী হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আদনান বাবু বলেন, এবারো এ উপজেলায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে কৃষকরা অনেকটা লাভবান হবে। আমরাও এমনটাই আশা করেছি। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাকিরুল ইসলাম বলেন, আলুর চাষাবাদ অনেকটা লাভজনক বলেই কৃষকরা আলু চাষে আগ্রহী হয়েছে। আমরাও মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের বিভিন্নভাবে সহযোগীতা ও পরামর্শ দিয়ে থাকি। উপজেলার রিধইল, সিংড়াখালাস, দোহার, ভদ্রদিঘী, দাসগ্রাম, ধুন্দার, কদমকুড়ি, বীরপলি, বুড়ইল, কহুলী, কাথম, চাকলমা, পুনাইল, বর্ষণ, দামরুল ও বিজরুলসহ বিভিন্ন রাস্তাঘাটে আলু ক্রয়-বিক্রয় লক্ষ্য করা যায়।