সারিয়াকান্দিতে গাছে তারকাঁটা ঠুকে লাগানো পোস্টার,ব্যানার অপসারণ

পাভেল মিয়া, সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ গাছেরও যে প্রাণ আছে, সেটা মানুষ ভুলে যায় অবলীলায়। তাই প্রচারণার পেরেক ঠুকে ক্ষত-বিক্ষত করা হয় তার দেহ। বগুড়ার সারিয়াকান্দি পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কোনোমতে বেঁচে থাকা গাছগুলোর দিকে তাকালেই চোখে পড়ে এমন দৃশ্য।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দেখা গেছে সারিয়াকান্দি উপজেলা শাখা বিডি ক্লিনের উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগীতায় গাছ থেকে তারকাঁটা ঠুকে লাগানো পোস্টার, ব্যানার খুলে ফেলছেন বিডি ক্লিনের সদস্যরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সামনের রাস্তায় থাকা মেহগনি গাছগুলোর গায়ে গেঁথে আছে অসংখ্য পেরেক। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আঙ্গিনায় মেহগনি গাছেও পেরেকের ক্ষত। পৌর এলাকার রাস্তার পাশে কিংবা মাঝখানে থাকা গাছও রেহাই পায়নি পেরেক দানবদের অত্যাচার থেকে। যে কেউ দেখেই বুজতে পারবে এ যেন গাছের সাথে অমানবিক অত্যাচার।
গাছেরও প্রাণ আছে। একেকটা গাছ একেকটা অক্সিজেনের কারখানা। এসব গাছে পেরেক দিয়ে পোস্টার, সাইনবোর্ড, ফেস্টুন বা ব্যানার লাগানো কতটা অমানবিক। এ ভাবনা থেকেই গাছ থেকে পেরেক, তারকাঁটা দিয়ে লাগানো পোস্টার, ব্যানার খুলে ফেলার কাজ করেছেন বিডি ক্লিনের সদস্যরা।
পৌর এলাকার বিভিন্ন গাছ থেকে শতাধিক পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন অপসারণ করা হয়। বিভিন্ন চিকিৎসক, কোচিং সেন্টার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রচারপত্র এসব গাছে পেরেক ঠুকে লাগানো ছিল।
এ সময় সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রাসেল মিয়া, উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল হালিম, সমাজসেবা কর্মকর্তা নাঈম হোসেন উপস্থিত ছিলেন। অপসারণকাজে সহযোগিতা করেন বিডি ক্লিনের সদস্য রাজিয়া সুলতানা ইতি, পারভেজ মাহমুদ, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
ইউএনও রাসেল মিয়া বলেন, ‘গাছের প্রতি এমন নির্মমতা কষ্টদায়ক। গাছে পেরেক ঠুকে সাইনবোর্ড লাগানো খুবই খারাপ কাজ। এতে স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট হয়। তা ছাড়া মানুষের গায়ে পেরেক ঠুকলে যেমন লাগে, গাছেরও তেমন লাগে। তাই গাছ থেকে সাইনবোর্ড অপসারণ করার বিডি ক্লিন উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে।’