নাগেশ্বরীতে জমিজমা বিরোধের জেরে প্রাণ নাশের হুমকীতে বাড়ি ছাড়া একটি পরিবার

সাইফুর রহমান শামীম ,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :  কুড়িগ্রামের নাগশ্বরীতে জমাজমি বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা পরবর্তীতে জীবন নাশের আশংকায় গত ৪ দিন ধরে একটি পরিবার ঘর-বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। এ অবস্থায় পাল্টাপাল্টি মামলা হলেও থানা পুলিশের তেমন ভুমিকা না থাকায় ঘরে ফিরতে পারছেন না পরিবারটি।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, নাগেশ্বরী উপজেলার আলপের তেপতি এলাকার বাবার পৌত্রিক সম্পত্তি নিয়ে আফজাল হোসেনের সাথে তার আপন দুই বড় ভাই আলতাফ হোসেন ও আশরাফ আলীর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই এক পর্যায়ে গত ৫ এপ্রিল বিকেল ৩ টার দিকে বড় দুই ভাই আলতাফ হোসেন ও আশরাফ আলীসহ তার পরিবারের লোকজন এবং বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে আমজাদ হোসেনের বাড়ি ও দোকানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে। এসময় আফজাল হোসেন বাড়িতে না থাকার সুযোগে তার স্ত্রীর উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় তার স্ত্রীর আত্মচিৎকারে ছেলে মোঃ মিনহাজুল সরকার রফি (২৩), রফিকুদ্দলা রিয়াদ (১৬), মেয়ে আবিদা সুলতানা আলা (২০) এগিয়ে এলে তাদেরকে মারধর করে। হামলার সময় আফজাল হোসেনের খামারের ২০০ মুরগী ও ৩০০ হাস লুট করে নিয়ে যায়। এসময় গুরুতর আহত অবস্থায় আফজালের স্ত্রী রাশদাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করায়। আহত ছেলে মেয়েরা গ্রাম্য ডাক্তারের নিকট চিকিৎসা নিয়ে ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্থ আফজাল হোসেন জানান, আলতাফ হোসেন আমার আপন বড় ভাই হলেও সে নাগশ্বরী উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে আমাদেরকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করে আসছে। এমনকি আমার আরেক বড় আশরাফ আলীকে দিয়ে আমার পৌত্রিক সম্পত্তি দখল নেয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এ ব্যাপারে কয়েকদফা গ্রাম্য সালিশ হলেও তারা তা না মেনে এমন সহিংস ঘটনা ঘটিয়েছে। পাশাপাশি নিজের বাড়িতে আমরা যাতে বসবাস করতে না পারি এ জন্য বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে প্রাণ নাশের হুমকী অব্যাহত রেখেছে। এ অবস্থায় বাড়ি-ঘর ছেড়ে আমি আমার পরিবার-পরিজন নিয়ে পালিয়ে  বেড়াচ্ছি।
এ বিষয় জানতে তার বড় ভাই আশরাফ আলীর সাথে কথা হলে জানান, আমার ছেলের ভুল করে তার দোকানপাট ভাংচুর করেছে। এব্যাপারে আমি প্রয়োজন হলে ক্ষতিপুরণ দিতে চেয়েছি।
আরেক বড় ভাই আলতাফ হোসেন জানান, আফজালের স্ত্রী রাশেদ একজন দস্যু প্রকৃতির মহিলা। ঘটনার সময় ওই মহিলাই আমার হাত ভেঙে দিয়েছে। এ কারনে আমার ছেলেরা তার উপর আক্রমন চালিয়েছে। এতে আমার এক ছেলেও আহত হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ রওশন কবির জানান, দুই পক্ষ থেকে মামলা দেয়া হয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত সাপক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বশেষ সংবাদ