গাজায় ইসরায়েলি বোমায় নিহত বেড়ে ৩৫, ইসরায়েলে হামাসের হামলায় নিহত ৫

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

বুধবার ভোরে ইসরায়েল আকাশপথে গাজায় কয়েকশ বোমা ফেলেছে। অন্যদিকে গাজা থেকে হামাস ইসরায়েলের অভ্যন্তরে তেল আবিব ও বিরসেবা এলাকায় রকেট হামলা চালাচ্ছে।

ইসরায়েলি হামলায় গাজায় একটি বহুতল ভবন ধসে পড়েছে। অপর একটি ভবনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা রকেট হামলার উৎসস্থলে এবং হামাসের স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

এ ছাড়া হামাসের গোয়েন্দা নেতাদের হত্যা করতে পেরেছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।

২০১৪ সালের পর এটিই ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার সবচেয়ে বড় সংঘর্ষ। সেবার সাত সপ্তাহের যুদ্ধে দুই হাজার ১০০ গাজাবাসী ও ৭৩ ইসরায়েলি নিহত হয়। এবারও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে উদ্‌বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মহল।

জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্যে নিযুক্ত শান্তি দূত টর ওয়েননেসল্যান্ড টুইটে বলেছেন, ‘সত্বর হামলা বন্ধ করুন। পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছি আমরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সব পক্ষের নেতাদের দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে।

জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘গাজায় যুদ্ধ হলে তার পুরো খেসারত হিসেবে সেখানকার সাধারণ মানুষকেই সব ক্ষতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। জাতিসংঘ সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। এখনই সংঘাত বন্ধ করুন।’

বুধবার ভোরে গাজাবাসী হঠাৎ দেখেন, তাদের বাড়িঘর কাঁপছে। ইসরায়েলি মিসাইলের আঘাতে আকাশ আলোময় হয়ে ওঠে। হামাসের ছোঁড়া রকেট ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আটকে যায়।

ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবের নিকটে আরব ও ইহুদি বসতিওয়ালা লড নামের একটি শহরে রকেট হামলায় দুজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। একটি গাড়িতে রকেট বোমা পড়লে এই দুজনের মৃত্যু হয়। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্য এদেরে একজন সাত বছরের মেয়ে শিশু।

অন্যদিকে, হামাস জানিয়েছে তারা গাজায় বহুতল ভবনে হামলার জবাবে বিরসেবা ও তেল আবিবে তারা ২১০টি রকেট বোমা ছুঁড়েছে।গত শুক্রবার মাহে রমজানের শেষ জুমার নামাজে বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনি প্রতিবারের মতো এবারও আল-আকসায় সমবেত হলে ইসরায়েলি পুলিশ মুসল্লিদের ওপর চড়াও হয়। ফিলিস্তিনি তরুণেরা পাথর ছুড়ে এর প্রতিবাদ করে। ৭ মে শুক্রবার এবং ১০ মে ইসরায়েলিদের জেরুজালেম দিবস পালনের দিন ইসরায়েলি পুলিশ ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যকার সংঘর্ষে কয়েকশ ফিলিস্তিনি আহত হন।

নতুন করে উত্তেজনার ফলে পূর্ব জেরুজালেমে ইহুদি দখলদারদের কাছ থেকে ফিলিস্তিনিদের ভিটেমাটি ফিরে পাওয়ার মামলার শুনানি পিছিয়ে গেছে।

অন্যদিকে, ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের হেবরন শহরের শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ২৬ বছর বয়সী এক তরুণের মৃত্যুর পর পশ্চিম তীরজুড়ে বিক্ষোভ সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ