সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ বগুড়া জেলা শাখার মানববন্ধন

করোনাকালে এন.জি.ও ঋনের কিস্তি আদায় বন্ধ করা, বগুড়া জেলার আদমদিঘী উপজেলার এনামুল হকের আত্মহত্যার প্ররোচনাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণসহ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে- বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে আজ-০৩ জুন ২০২১ বেলা ১১:০০ টায়  সাতমাথায়  মানববন্ধন-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেণ বাসদ বগুড়া জেলা আহŸায়ক কমরেড এ্যাড.সাইফুল ইসলাম পল্টু, বক্তব্য রাখেন বাসদ বগুড়া জেলা সদস্যসচিব সাইফুজ্জামান টুটুল, বাসদ জেলা সদস্য মাসুদ পারভেজ, শহিদুল ইসলাম, দিলরুবা নূরী, রাধা রানী বর্মন প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।

সাইফুল ইসলাম পল্টু বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩-এর ১৮ (ছ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত ২০ এপ্রিল  বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ‘ঋণ, লিজ, অগ্রিম শ্রেণিকরণ’ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করেছে, যেখানে ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময় তিন মাস বাড়িয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসের ঋণের কিস্তি  গ্রাহকেরা জুন পর্যন্ত পরিশোধ করতে পারবে। এ সময় ঋণ খেলাপি করা যাবে না, পাশাপাশি দন্ড সুদ এবং অতিরিক্ত ফি, চার্জ বা কমিশনও আদায় করা যাবে না। অথচ দেশের অধিকাংশ এন.জি.ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা না মেনে ঋণ গ্রহীতাকে মানসিক ভাবে নির্যাতন করে কিস্তি আদায় করছেন  আর এই মানসিক নির্যাতনের ফলে আদমদিঘীর এনামুল হককে  আত্মহননের পথ বেচে নিতে হয়েছে। তাই তিনি এনামুল হকের আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণসহ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং করোনা মহামারী কালে গ্রাম-শহরের শ্রমজীবীদের কাছ থেকে এনজিও এবং মহাজনী ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
সাইফুজ্জামান টুটুল বলেন, করোনা মোকাবেলায় সরকারের অপরিকল্পিত ও প্রস্তুতিহীন লকডাউন কর্মহীন গ্রাম-শহরের শ্রমজীবী মানুষ এমনিতেই আয় রোজগার হারিয়ে অভাব অনটনে বিপর্যস্ত, তার সাথে এনজিও এবং মহাজনী ঋণের কিস্তি আদায়ের নামে হয়রানী গ্রামের দিনমজুর, শহরের হকার, রিকশা চালক দিন আনে দিন খায় মানুষেরা দিশেহরা অবস্থায় পড়েছে। তাই, তিনি এনামুল হকের প্ররোচনাকারীদের বিচার এবং করোনা মহামারীকালে ঋণের কিস্ত আদায় বন্ধ করতে সরকারে প্রতি জোর দাবি জানান।
সমাবেশে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন, গত ২৩ এপ্রলি ২০২১ দৈনিক জনকন্ঠের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে “কঠোর লকডাউনের মধ্যেও চলছে এনজিও ঋণের কিস্তি আদায়। টাকা আদায়ের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাপ দিচ্ছেন এনজিও কর্মীরা। এমনকি ঋণ আদায়ের জন্য গ্রাহকদের ওপর  জোর জবরদস্তিও করছেন। অথচ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকলেও বন্ধ হয়নি তাদের এই ঋণ আদায় কার্যক্রম। ফলে ঋণ পরিশোধের এমন চাপের মুখে পড়ে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে থাকা পরিবারগুলো পড়েছে চরম বিপাকে”। নেতৃবৃন্দ বলেন এ.জি.ও গুলি কিস্তি আদায়ের কার্যক্রমে এমনতর পরিস্থিতির তৈরি করায় আদমদিঘীর এনামুল হককে আত্মহত্যার করতে হলো। তাই করোনাকালে সকল এন.জি.ও ঋণের কিস্ত আদায় বন্ধ এবং এনামুলের আত্ম হত্যার প্ররোচনা দানকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।