নওগাঁয় একদিনে সর্বোচ্চ করোনা সংক্রমণের রেকর্ড

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁয় গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১৯ জনের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। জেলায় এটি এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। এর আগে গত বছরের ২৬ জুন ১ দিনে সর্বোচ্চ ৮৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়। নতুন শনাক্ত ১১৯ জনকে নিয়ে জেলায় করোনা সংক্রমণের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫০৪।
গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় সংক্রমিত হয়ে একজন এবং করোনার উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। নওগাঁর ডেপুটি সিভিল সার্জন ও জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির ফোকাল পারসন মঞ্জুর-এ মোর্শেদ আজ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় আরটি-পিসিআর ও র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে ১ হাজার ১৯২ জনের মধ্যে ১৩০ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। শনাক্তের হার ১০ দশমিক ৯০ শতাংশ। শনাক্ত হওয়া ১৩০ জনের মধ্যে ১১ জনের দ্বিতীয়বার টেস্টে পজিটিভ এসেছে। অর্থাৎ নতুন শনাক্ত রোগী ১১৯ জন। নতুন শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সদর উপজেলার ৩৫ জন, রানীনগরের ৬, মহাদেবপুরের ১৪, মান্দার ১২, বদলগাছির ৩, পত্নীতলার ১৩, ধামইরহাটের ৪, নিয়ামতপুরের ১২, সাপাহারের ৭, পোরশার ৮ ও আত্রাইয়ের ৫ জন।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের করোনা সংক্রান্ত দৈনিক প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ১০ দিনে জেলায় ১ হাজার ৮৮৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৯৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৭১ শতাংশ। প্রতিদিন গড়ে শনাক্ত হয়েছে প্রায় ৩০ জনের। এই ১০ দিনে জেলায় করোনায় মারা গেছেন ৮ জন।
নওগাঁয় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত বছরের ১৩ মে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত ১৬ হাজার ৮৩০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২ হাজার ৫০৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ১১১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। পুরো জেলার করোনা শনাক্তের হার ৪৪ দশমিক ৩৬। জেলায় করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৬২ জন। করোনায় মারা গেছেন ৪৬ জন।
জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির ফোকাল পারসন ও ডেপুটি সিভিল সার্জন মঞ্জুর-এ মোর্শেদ বলেন, গত ২০ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত করোনা পরীক্ষা হওয়া নমুনায় শনাক্তের হার ৩২ শতাংশের ওপরে। তবে ১ জুন থেকে গতকাল পর্যন্ত পরীক্ষা হওয়া নমুনায় করোনা শনাক্তের হার ছিল ১১ শতাংশের কাছাকাছি। এটা দেখে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সংক্রমণের হার কম মনে হলেও স্বস্তির কিছু নেই। কারণ, ১০ শতাংশের ওপর সংক্রমণ হার এখনো উদ্বেগজনক।
গত বৃহস্পতিবার থেকে নওগাঁ পৌরসভা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় সর্বাত্মক লকডাউন চলছে। এ ছাড়া জেলার পোরশা, সাপাহার ও মান্দা উপজেলায় বাজারঘাট ও জনসমাগম ঘটে এমন এলাকায় বিধিনিষেধ আরোপ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

সর্বশেষ সংবাদ