রৌমারীতে সরকারি গাছ কাটলেন ইউপি চেয়ারম্যান!

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি।। কুড়িগ্রামের রৌমারীতে দরপত্র ছাড়াই সরকারি তিনটি গাছ কাটলেন ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই এসব গাছের গোড়ায় করাত চালাচ্ছেন তার। বুধবার দুপুরের দিকে উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন (ভূমি) অফিসের পাশে পাগলা মাজার সংলগ্ন সরকারি জমিতে সরজমিনে গিয়ে দুইটি আম গাছ ও একটি কদম গাছ কাটার নমুনা দেখাতে পান এলাকাবাসীসহ সাংবাদিকগণ গণ। তবে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম রেজাউল করিমের দাবি, ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষ সবকিছুই জানেন। বিশেষ করে ইউএনও স্যারের নির্দেশই গাছগুলা কাটা হয়েছে। তাই কিছু বলার বা জানার থাকলে তার সঙ্গে কথা বলেন। এক্ষেত্রে কোন মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন ওই ইউপি চেয়ারম্যান। উপজেলার দাঁতভাঙ্গা বাজার সংলগ্ন ইউনিয়ন (ভূমি) অফিসটির অবস্থন। ইটের প্রাচীরবৃষ্টিত চত্বর। প্রায় ১২ বিঘা জায়গা জুড়েই রয়েছে বেশকিছু পুরনা ও দামি বনজ ও ফলদ গাছ। আর উত্তর-পশ্চিম কোণে অবস্থিত পাগলা মাজার ও হাফিজিয়া মাদরাসা। সামনেই স্তপ করে রাখা হয়েছে কিছু কাটা আম গাছের ডালপালা। গাছকাটা শ্রমিকরাও সেখানে আরেকটি গাছ কাটছেন। একজন গাছকাটা শ্রমিক নঈম মিয়া জানান, চেয়ারম্যান রেজাউল করিমের নির্দেশে আমরা সরকারি গাছগুলো কাটছি। যা বলার তাকে গিয়ে বলেন। স্ানীয় মোবাইল ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম, হোটেল ব্যবসায়ী আবেদ আলী, শফিক মিয়া, হাবিল আলীসহ অনেকেই বলেন, কয়েকজন শ্রমিক দাঁতভাঙ্গা ভূমি অফিসের সরকারি গাছগুলো কাটছেন। এর বেশি কিছু জানি না। তবে শ্রমিকদের কাছ থেকে শুনেছেন, ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশেই গাছগুলো কাটার কাজ করছেন। ৫ হাজার টাকায় চুক্তিতে এসব গাছ তারা কেটে দিচ্ছেন বলেও জানান। স্ানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যে দরপত্র আহ্বন করে বিক্রি করা হলে গাছগুলো ন্যায্যমূল্যে বিক্রির মাধ্যমে অনেক বেশি রাজস্ব আদায় হতো। সরকারি কোষাগারে জমা হতো টাকা। এখন কী আর সেটি হবে। ইউনিয়ন (ভূমি) কর্মকর্তা ইসমাইল হোসাইন বলেন, গাছগুলো সরকারি। যারা কাটছেন তাদের বিরুদ্ধে আমি লিখবো। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রৌমারী উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ. আল ইমরান জানান, ‘সরকারি সম্পতিতে থাকা গাছ যিনি কেটেছেন তিনি অপরাধ করেছেন। তারপরও বিষয়টি খোজখবর নিয়ে ব্যবস্া নেয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে ওই ইউপি চেয়ারম্যানকে কোন অনুমতি দেয়া হয়নি।’

সর্বশেষ সংবাদ