বগুড়ায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের মানববন্ধন-সমাবেশ

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি-আজ ১০ জুন ২০২১ বেলা ১১:৩০টায় বাম গণতান্ত্রিক জোট বগুড়ার উদ্যোগে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ধণিক তোষণের বাজেট প্রত্যাখ্যান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষাসহ উৎপাদনশীল খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিতে সাতমাথায় মানববন্ধন-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন বাম গণতান্ত্রিক জোট বগুড়ার সমন্বয়ক, সিপিবি জেলা সভাপতি জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, সমাবেশ সঞ্চালনা করেন বাসদ জেলা সদস্য সচিব সাইফুজ্জামান টুটুল। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ জেলা আহ্বায়ক অ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু, সিপিবি জেলা সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ফরিদ, গণসংহতি আন্দোলন জেলা সমন্বয়কারী আব্দুর রশিদ, সিপিবি জেলা সম্পদক মন্ডলীর সদস্য হাসান আলী শেখ, বাসদ জেলা সদস্য শ্যামল বর্মন।
সভাপতির বক্তব্যে জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, “ ঘোষিত বাজেটে ধনিদের কর কমানো, কালো টাকা ও অপ্রদর্শিত টাকাকে সাদা করার সুযোগ দেয়া সহ আমলা ধনিকে খুশি করার দিকেই সরকার মনযোগ বেশি দিয়েছে। ভ্যাট-ট্যাক্সসহ পরোক্ষ করের বোঝা বাড়িয়ে সাধারণ মানুষদের ভোগান্তি আরও বাড়ানো হচ্ছে। বিশাল আকারের বাজেট ও অনেক কথার চাতুরিতে বাজেটে জনগণের মূল সমস্যাকে আড়াল করা হয়েছে।” তিনি ঘোষিত বাজেটকে প্রত্যাখান করে ১৭ কোটি মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থানসহ জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে এবং সকল মানুষকে টিকার আওতায় আনার রোড ম্যাপও বাজেটে ঘোষণা করার আহ্বান জানান।
অ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “গত বাজেটের চেয়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৬৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার এই বাজেট করোনাকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের জীবনমান রক্ষা ও জীবিকার নিশ্চয়তার চাইতে বৈষম্য বাড়িয়ে তুলবে। খাদ্য সরবরাহ, খাদ্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, শ্রমিক-কৃষক, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমজীবীদের জীবন বাঁচাতে রেশন ব্যনস্থা চালু, শ্রমজীবীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল ও চিকিৎসার বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন ছিল। যে কৃষি ও কৃষক ধান, ভুট্টা, মাছ, মাংস, সবজী, ফল উৎপাদন করে করোনাকালে দেশকে বাঁচিয়ে রেখেছে, ৪২ শতাংশ ভর্তুকি একই পরিমাণ রাখা হয়েছে। ফলে মুদ্রাস্ফীতির বিবেচনায় কৃষিতে ভর্তুকি কমে গিয়েছে।” ঘোষিত বাজেট জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনের সাথে সংগতিপূর্ণ নয় বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
অন্যান্য বক্তাগণ বলেন, করোনায় আগের তুলনায় আড়াই কোটি মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে নেমে গেছে, দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৪২ শতাংেশের বেশি হয়েছে অথচ তাদের জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় বরাদ্দ করা হয়নি। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে উপকারভোগীর সংখ্যা বেড়েছে ১৪ লাখ আর বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে ৮ হাজার কোটি টাকা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দেশের কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি। কিন্তু বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ প্রান্তিক পর্যায়ে। গত বাজেটে করোনাকালে প্রণোদনায় কৃষি ঋণের সুদ ৪.৫ শতাংশ অথচ গার্মেন্টসসহ শিল্পে তা ২ শতাংশ করা হয়েছিল, কৃষি ঋণের সুদ কমানোর প্রস্তাব এবারের বাজেটেও নেই। করোনায় কাজ হারিয়েছে শ্রমিক, ৬ লাখের বেশি প্রবাসী শ্রমিক দেশে ফিরেছে, প্রতি বছর শ্রমের বাজারে আসে ২২ লাখ তরুণ যুবক তাদের কর্মসংস্থানের কোন পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা এবারের বাজেট প্রস্তাবে নেই। সাড়ে চার কোটি শিক্ষার্থী এবং ২০ লাখের বেশি শিক্ষক করোনাকালে বিপর্যস্ত। ছাত্রদের জন্য শিক্ষা সহায়তা এবং শিক্ষদের জন্য জনদুর্যোগ ভাতা প্রয়োজন থাকলেও বাজেটে তার নির্দেশনা নেই। নারী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং পাহাড় সমতলের আদিবাসী মানুষেরা করোনায় অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে বিপদাপন্ন। এক্ষেত্রে গতানুগতিক দায়সারা গোছের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিশাল বাজেটের বড় বোঝা জনগণের উপর চাপিয়ে বড় ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, আমলা সহায়ক এই বাজেট কৃষককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, শমিককে দুর্দশায় ফেলবে, বেকারদেরকে হতাশায় নিমজ্জিত করবে, ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পকে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জে ফেলবে তাই এই বাজেটকে শ্রমিক, কৃষক, নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত জনগণের স্বার্থে সংশোধনের দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।