পৌরসভার টোল ধার্যের টেন্ডার বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার:বগুড়ায় মৌসুমী ফল ব্যবসায় পৌরসভার টোল ধার্যের টেন্ডার বাতিল ও স্থগিতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ফল ব্যবসায়ী সমিতি।বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বগুড়া প্রেসক্লাবে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. তুষার।লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, আমরা ফল ব্যবসায়ীরা বিগত ৫০ বছর ধরে বগুড়ায় সকল প্রকার আইন-কানুন, নিয়ত-নীতি এবং বিধি-বিধান মেনে সুনামের সাথে ব্যবসা করে আসছি। ১৮ বছর ধরে এই সংগঠন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। যার রেজিষ্ট্রেশন নং-২৩৬৯।তিনি বলেন, প্রতিবছর বিদেশী ফলের পাশাপাশি আমরা আম, জাম, লিচু, লটকন ইত্যাতি মৌসুমী ফল কেনাবেচা করে থাকি। স্বাভাবিকাভাবেই লিচুর কিছু পাতা পড়ে রাস্তায় আবর্জনা জমে যা আমরা পরিস্কার করে দেই। কিন্তু এ বছর ৮নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আমাদের প্রস্তাব দেয় সম্প্রতি ময়লা আবর্জনা বেশি হচ্ছে যেটা পৌরসভার সীমিত কর্মীদের দিয়ে পরিস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। আর এজন্য অতিরিক্ত লোকবলের প্রয়োজন। তার এ প্রস্তাব যুক্তিযুক্ত হওয়ায় আমরা আলোচনায় বসে সমঝোতায় আসি। সে মোতাবেক প্রতিটি আড়ৎ ও খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দৈনিক এবং মাসিক কালেকশন করে সেই অর্থ স্টেশন রোড পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে। পরবর্তীতে গত ৩জুন দৈনিক করতোয়া পত্রিকায় বগুড়া পৌরসভা র্কর্তৃক টেন্ডারের মাধ্যমে টোল আদায়ের বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়েছে। এই বিজ্ঞপ্তি প্রচারের আগে পৌরকর্তৃপক্ষ আমাদের সাথে সৌজন্যমূলক আলোচনারও প্রয়োজনবোধ করেনি। তাই আমরা মনে করি এটা অযৌক্তিক ও অগ্রহনযোগ্য।সংবাদ সম্মেলনে আরো উল্লেখ করেন, রেলের জায়গা লিজ নিয়ে আমরা ব্যবসা করি। আমাদের সকল ব্যবসায়ীর হাল নাগাদ পৌরসভার ট্রেড লাইন্সেস আছে। পৌরসভাকে সাইনবোর্ড ব্যবহার বাবদও অর্থ দিচ্ছি। যা টাকার অংকে কম নয়। এরপরও যদি টেন্ডার দিয়ে টোল ধার্য করা হয় তাহলে বগুড়ার বাইরের মৌসুমী পাইকারি ফল ব্যবসায়ীরা আর বগুড়া মুখি হবে না। শহরের বাইরে এখন অসংখ্য ফলের আড়ৎ গড়ে উপঠেছে। কাঁচামাল হিসেবে ফল ব্যবসার ধরণের কারনে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে আমাদের লাখ লাখ এমনকি কারো কোটি টাকাও বকেয়া পড়েছে। এখন যদি পৌর টোলের কারণে পাইকাররা বিরক্ত হয়ে বগুড়া না আসে তাহলে আমাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে এবং কোটি কোটি টাকার বকেয়া আদায় করা সম্ভব হবে না। ফলে ফল ব্যবসায়ী সমিতির ৮’শ রেজিষ্ট্রার্ড এবং এর বাইরে আরও কয়েকহাজার ব্যবসায়ীর রুটি রুজি বন্ধ হয়ে যাবে।সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা পৌরসভার এই হঠকারি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং টেন্ডার স্থগিত ও বাতিলের দাবি জানান। এই সিদ্ধান্ত বাতিল না হলে এর বিরুদ্ধে বহুমাত্রিক আন্দোলনের কর্মসূচি পালনসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে এবং প্রয়োজনে ব্যবসা বন্ধ করা হবে বলে তারা জানান।এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা মুনছুর, মুকুল, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তফা, সহ-সভাপতি স্বাধীন, সাবেক সভাপতি মাহমুদ শরীফ মিঠু, সহ-সাধারণ সম্পাদক মামুন শেখ, সাংগঠনিক সম্পাদক আজমল, প্রচার সম্পাদক আইনুল ইসলাম, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সেকেন্দার, সদস্য রিমন, নাহিদুল ইসলাম নাহিদ প্রমুখ।