চাচার ঋণ থাকায় ভাতিজির ‍বৃত্তির টাকা আটকে দিল ব্যাংক

অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল রাজশাহীর তানোর উপজেলার মন্ডুমালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজিদা সুলতানা জয়া। জয়ার ইচ্ছা ছিল বৃত্তির টাকা পেয়ে প্রাইভেট পড়ার বাকি ফি পরিশোধ করার পাশাপাশি কিছু বইপত্র ও নতুন পোশাক কিনবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে তার। বৃত্তির টাকা না পেয়ে ব্যাংক থেকে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাকে।

ব্যাংকের কাছে জয়ার চাচার ঋণ থাকার কারণে ভাতিজি জয়ার শিক্ষবৃত্তির টাকা আটকে অভিযোগ উঠেছে সোনালী ব্যাংকের মুন্ডুমালা হাট শাখায় ম্যানেজারের বিরুদ্ধে।

পরে নিরুপায় হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীর বাবা শহিদুল ইসলাম।

শিক্ষার্থীর বাবার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাঁচন্দর গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে সানজিদা সুলতানা জয়া মুন্ডুমালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায়। এতে সরকারি নিয়মে নিকটস্থ সোনালী ব্যাংক মুন্ডুমালা হাট শাখার ৪৬২৬৮০১০০০০৮২ হিসাব নম্বরে বৃত্তির ৫ হাজার ৯০০ টাকা জমা হয়। বিষয়টি স্কুল শিক্ষার্থী জয়াকে অবহিত করাহয় । এতে দরিদ্র পরিবারের মেয়ে জয়া আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠে। পরে গত বৃহস্পতিবার বাবা-মাকে নিয়ে ব্যাংকে যায় সে। এ সময় জয়া ব্যাংকের কাছে টাকা চাইলে তার চাচার ঋণ থাকার কথা জানিয়ে তাকে টাকা দেওয়া হয়নি।

জয়ার বাবা শহিদুল ইসলাম জানান, আমার বড় ভাই আতাউর রহমানের কাছে ক্ষুদ্র ঋণের কিছু বকেয়া টাকা পাবে সোনালী ব্যাংক। তাই আমার ভাইয়ের ঋণের টাকা আমার মেয়ের বৃত্তির টাকা থেকে কেটে নেবে বলে জানিয়েছে সোনালী ব্যাংক। এ নিয়ে অনেক অনুরোধ করা হলেও তিনি আমাকে ধমক দিয়ে ব্যাংক থেকে বের করে দেন।

তবে সরকারের দেওয়া বৃত্তির টাকা থেকে চাচার ঋণ পরিশোধের জন্য আটকানো যায় কিনা, এমন প্রশ্নের জবাব দিতে রাজি হননি ব্যাংক ম্যানেজার।

তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পঙ্কজ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, স্কুলছাত্রী বৃত্তির টাকা অন্যখাতে কেটে নেওয়ার এখতিয়ার ব্যাংকের নেই।  অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যাংক ম্যানেজারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

অভিযোগের বিষয়ে সোনালী ব্যাংক মুন্ডুমালাহাট শাখার ম্যানেজার মিঠন কুমার দেব বলেন, স্কুল ছাত্রীর চাচার কাছে অনেক পুরোনো একটি ঋণের টাকা পাওয়া যাবে। ঋণটা আদায় করার জন্য বৃত্তির টাকা আটকানো আছে।