কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণে সম্মৃদ্ধির সম্ভাবনা

সাইফুর রহমান শামীম, কুড়িগ্রাম।। বাড়ছে মানুষ, কমছে কৃষি জমি। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যের চাহিদা মেটাতে নির্ভরতা বাড়ছে কৃষির ওপর। কিন্তু নির্ভরতা বাড়লেও বাড়ছে না ফসলি জমি। চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে কি ভাবে একই জমি থেকে অধিক কিংবা বারবার ফসল পাওয়া যায় ভাবতে হচ্ছে সেই ভাবনা। আর তাই তো কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যয় কমাতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে নানান উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার। সরকারের গৃহীত উদ্যোগ বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ। সেই ধারাবাহিকতায় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার নির্দেশনায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগন আধুনিক কৃষিযন্ত্র প্রদর্শন ও ব্যবহার করে প্রদর্শনী ক্ষেতে ফসল উৎপাদন করে কৃষকদের অনুপ্রাণিত করছেন। সেই সাথে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যয় কমাতে বিভিন্ন প্রকল্প ও ভর্তুকির আওতায় উপজেলার কৃষকদের দেয়া হচ্ছে আধুনিক কৃষিযন্ত্র। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে রংপুর বিভাগ কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ছয় ইউনিয়নের বিভিন্ন কৃষক গ্রুপের মাঝে ৩ টি রাইসট্রান্সপ্লান্টার, ৯ টি রিপার, ৩৮ টি পাওয়ার থ্রেসার এবং একই প্রকল্পের আওতায় ফুটপাম্প, উইডার, হ্যান্ড স্প্রেয়ার, উইনার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। কৃষিতে শ্রমিক নির্ভরতা কমাতে কৃষি ভর্তুকির আওতায় ১২ ধরনের কৃষি যন্ত্রে দেয়া হচ্ছে। অত্র উপজেলায় ইতিমধ্যেই ভর্তুকির আওতায় কৃষকদের ৩ টি কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার দেয়া হয়েছে। সরেজমিন ঘুরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে কথা হলে বোরো মৌসুমে ধান কাটার কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, একসঙ্গে অনেকের জমির ধান পাকায় শ্রমিক নিয়ে অনেকটা টানাটানি অবস্থা ছিল। তাছাড়া ধান কাটা, ক্ষেত থেকে ধান আনা এবং মাড়াই করার জন্য পৃথক পৃথক শ্রমিকের পিছু ছুটটে হত। কৃষি অফিসের পরামর্শে কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার দিয়ে আমরা স্বল্প খরচ ও সময়ে সরাসরি ক্ষেত থেকে একেবারে বস্তাবন্দি প্রায় বাজারজাত করার উপযোগী ধান ঘরে তুলেছি। এতে ফসল উৎপাদনে খরচ কমার পাশাপাশি চাষাবাদে শ্রমিক নির্ভরতা কমেছে। চলতি আমন মৌসুমে চারা রোপণের জন্য সনাতন পদ্ধতির ব্যবহার না করে রোপণ যন্ত্রের মাধ্যমে চারা রোপণ করছেন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষক। এসময় ধান চাষীদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, শ্রমিক দিয়ে চারা রোপণের অর্ধেক খরচে যন্ত্রের মাধ্যমে জমিতে ধানের চারা রোপণ করেছি। যন্ত্রের মাধ্যমে কম চারা দিয়ে সঠিক দূরত্বে জমিতে রোপণ করা সম্ভব হয়েছে। সমানভাবে সঠিক দূরত্বে চারা রোপণের ফলে ক্ষেতের পরিচর্যা করা সহজ হবে। রাইস ট্রান্সপ্লান্টার দিয়ে লাগানো ধানের চারা গাছগুলো সবুজ সতেজতায় দ্রুত বেড়ে ওঠছে। আমরা আশা করি যান্ত্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করে কম খরচে এবারে আমরা বেশি ফলন পাব। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রশীদ বলেন, যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করার জন্য আমরা কৃষকদের বিভিন্ন প্রকল্প ও ভর্তুকির আওতায় কৃষি যন্ত্র দিচ্ছি। কৃষিতে শ্রমিক নির্ভরতা কমিয়ে যান্ত্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করে কম খরচে ফসল উৎপাদনে সাফল্য পেয়েছেন এখানকার কৃষকরা। ফুলবাড়ীর কৃষিতে সম্মৃদ্ধি এখন আর কোন কল্পকথা নয়। বাস্তবতায় অনুপ্রাণিত হয়ে এখানকার কৃষকেরা এখন আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহী হয়েছেন। আশাকরি সম্মৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত রেখে ক্ষুধামুক্ত,খাদ্যে স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে এ অঞ্চলের কৃষকেরাও ভূমিকা রাখবে ইনশাআল্লাহ।