১৫ দিনে বগুড়া মুদি দোকানদার হৃদয় হত্যাকন্ডেঃ ধরা পরেনি মূল আসামি

স্টাফ রিপোর্টার:১৫ দিন বয়সী নবজাতক আব্দুল্লাহ আল ফারদিন জানে না পৃথিবীতে আসার মাত্র দু’দিন আগে ঘাতকদের ছুরিকাঘাতে তার নিরপরাধ বাবা খুন হয়েছে।একমাত্র ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে সেই রাতে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত মামুনুর রশিদ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও এখনও তার শরীরে আঘাতের ক্ষত শুকোয় নি। তবে এ ক্ষত শুকিয়ে যাবে আজ বাদে কাল নয়তো পরশু কিন্তু চোখের সামনে ২৫ বছর আগলে রাখা ছেলেকে খুন হওয়ার ক্ষত আর শুকাবেনা কখনও।বলছিলাম বগুড়ায় চাঞ্চল্যকর কুরআনের হাফেজ ও মুদী দোকনদার রাকিব হৃদয় হত্যাকান্ডের কথা।ঘটনার ১৫ দিন পার হলেও এখনও ধরা ছোঁয়ার বাহিরে রয়েছে মামলার মূল আসামীরা।জুলাই মাসের ২০ তারিখ ঈদের আগের রাতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের পূর্ব বগুড়া নারুলী কৈ-পাড়া পুকুর পাড় এলাকায় স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রুপ স্বাধীন গ্যাং হাতে ছুরিকাঘাতে আহত হন হৃদয়।২১ তারিখ ঈদের দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৮ টার সময় হৃদয় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।এলাকার চিহ্নিত কুখ্যাত সন্ত্রাসী স্বাধীন গ্যাং প্রধান স্বাধীন হোসেনের নেতৃত্বে ৫/৭ জন তার দোকানে যেয়ে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ত্রীসারা হৃদয়কে উপর্যপুরি ছুরিকাঘাত করে। ওই সময় নিহতের বাবা মামুনুর রশিদ বাঁধা দিতে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করা হয়। পরে শজিমেকে দীর্ঘ দুই সপ্তাহ চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরেন তিনি।নিহতের মা আয়েশা সিদ্দিকা (৪৮) বৃহস্পতিবার ২৩ তারিখ বগুড়া সদর থানায় স্বাধীন গ্যাং প্রধান স্বাধীন ও তার অপর ৪ সহযোগী আশিক (২২),রাব্বি (২৪), শাকিল (২৩) ও মতিন (২৫) সহ অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন ।ঘটনার পরে পুলিশ মামলার এজাহারে থাকা শাকিল ও মতিন (স্বাধীনের বডি গার্ড) গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে।তবে স্বাধীন গ্যাং প্রধান স্বাধীন ও তার দুই সেকেন্ড ইন কমান্ড আশিক ও রাব্বিকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।স্বাধীন গ্যাং এর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ছাড়াও ডাকাতি,ছিনতাই ও এলাকায় অস্ত্র মোহড়া সহ নানা অপকর্মের রেকর্ড আছে।আর সেই সব অতীত অপরাধের রেকর্ডকে পুঁজি করে তার নিজ এলাকা ধাওয়াপাড়া,কৈ-পাড়া ও নাটাইপাড়া এলাকা দাপিয়ে বেড়াতো তারা।স্বাধীনের বিরুদ্ধে হৃদয় হত্যা মামলা, অস্ত্র মামলা,ডাকাতি প্রস্তুতি মামলা ও গুরুতর জখম সহ মোট ৬ মামলা আছে বগুড়া সদর থানায়। পাশাপাশি জেলা পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সে।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নারুলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) আনোয়ার হোসেন জানান, আমরা স্বাধীন সহ বাকি আসামীদের ধরতে আমরা চেষ্টা করছি। আশা করছি দ্রুত তারা আইনের আওতায় আসবে।নিহতের মা ও মামলার বাদী আয়েশ সিদ্দিকা জানান, আমার নিরপরাধ ছেলেকে ওরা খুন করছে। আমি তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।১৫ দিন পার হয়ে গেলেও প্রশাসন ধরি ধরি বলে আসামীদের ধরতে পারেনি। আশা করি দ্রুত তারা গ্রেফতার হবে।নিহত হৃদয়ের বাবা মামুনুর রশিদ কাঁন্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার চোখের সামনে আমার ছেলেকে খুন করলো তারা। আমার একমাত্র ছেলেকে ওরা মেরে ফেললো। আমি ওদের শাস্তি চাই।জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল ও মিডিয়া) ফয়সাল মাহমুদ জানান, আমরা জড়িত সবাইকে ধরতে কাজ করে যাচ্ছি আশা করছি দ্রুত সাবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।