বগুড়ায় ডাঃ কাজলের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ৩জন রিমান্ডে

স্টাফ রিপোর্টার:বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আরএমও ডা. শফিক আমিন কাজলের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত তিনজনকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার দুপুরে বগুড়ার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আহম্মেদ শাহরিয়ার তারিক এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গ্রেফতারকৃত তিনজন হলেন আবু বক্কর সিদ্দিক বিপ্লব, হারুন অর রশিদ ও নাজমুস সাকিব। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ শহর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক(এসআই) ফজলে এলাহী । তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত তিনজনকে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।এর আগে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ডাঃ কাজলের গ্রামের বাড়ি শিবগঞ্জ উপজেলার আটমূলে যান কয়েকজন লোক। তারা সেখানে তাঁর পৈত্রিক জায়গায় নির্মিত দোকানে গিয়ে ওইসব দোকান নিজেদের বলে দাবি করে এবং দোকানের ভাড়া ডাক্তার বা তার পরিবারকে দিতে নিষেধ করে। দোকানীরা বিষয়টি ডা. কাজলকে জানালে তিনি ওই লোকদের পরিচয় জানতে চান। তখন একজনের সাথে মোবাইল ফোনে তাকে কথা বলিয়ে দেয়া হয়। ওই ব্যক্তি তখন মোবাইলে নিজেকে পুলিশের পরিদর্শক মনির পরিচয় দিয়ে ডা. কাজলের বাসার ঠিকানা জেনে নেন। তারা ডাক্তারের বাসায় গিয়ে কথা বলতে চান। বিকেলে তাদের বাসায় আসতে বললে ৫টার দিকে তিনটি মোটরসাইকেল নিয়ে ৬জন তার বাসার সামনে আসেন। তাদের একজনের মোটরসাইকেলে পুলিশ লেখা ছিলো। ডাক্তারকে তারা বাসা থেকে ডেকে বের করে গ্রামের ওই জমিটি তাদের বলে দাবি করেন। তিনি লোকগুলোর পরিচয় জানতে চাইলে বিতন্ডা শুরু হয়।এসময় ডা. কাজল তার মোবাইল ফোনে ছবি ধারণ করতে গেলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে মোবাইল কেড়ে নিয়ে ডাক্তার কাজলকে মারপিট করেন। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করার পাশাপাশি ২টি মোটরসাইকেলসহ হামলাকারিদের মধ্যে ৩জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।মঙ্গলবার রাতেই ডা. শফিক আমিন কাজল গ্রেফতারকৃত তিনজনসহ ৫ জনের নাম বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন। (মামলা নং-৩১ তারিখ-১১-০৮-২১)। মামলায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ইন্সপেক্টর মনির হোসেনকেও আসামি করা হয়েছে। তবে তার কর্মস্থল কোথায় তা এজাহারে উল্লেখ নাই। এ প্রসঙ্গে ইন্সপেক্টর মনির হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ইন্সপেক্টর দাবি করলেও কর্মস্থল বলতে রাজী হননি। তার বাড়ি চাপাইনবাবগঞ্জ জেলায় হলেও তিনি বগুড়া শহরের জহুরুল নগরে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করেন।