ভোলায় ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার সেই ভূয়া সাংবাদিক ফাহাদ জামিনে বেরিয়ে ফের মাদক ব্যবসায়!

স্টাফ রিপোর্টারঃ ভোলা শহরের বহুল আলোচিত চিহ্নিত ভূয়া সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান ফাহাদ নামীয় এক যুবকের রমরমা মাদক ব্যবসা চলছে বলে খবর মিলেছে। জেলার বিভিন্ন জায়গায় উক্ত ফাহাদ নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এর অন্তরালে হরদমে মাদক ব্যবসা চালানোর খবর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনির কাছে রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফাহাদ ভোলায় কিছুদিন ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। কিন্তু মাদক সেবন ও এই ব্যবসার কারনে তার রাজনীতির ভবিষ্যৎ প্রদ্বীপ অঙ্কুরেই নিভে যায়। অপরাধ, অপকর্ম আর মাদক সিন্ডিকেটের সাথে সম্পৃক্ত ফাহাদ খুব অল্প দিনেই অপরধ জগতের ছিচকে মাদক ব্যবসায়ীর খাতায় নাম লিখান। ভোলার মাদক পাড়ায় ফাহাদ একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে ইতিমধ্যেই মাদক সেবীদের কাছে পরিচিতি লাভ করেছেন। নির্ভরযোগ্য তথ্যমতে, ভোলা সদর উপজেলার বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান ফাহাদ ও তার সহযোগী জসিম উদ্দিনকে বছর দু’য়েক আগে ইয়াবাসহ আটক করেছিল পুলিশ। আটকের পর মাহমুুদুল হাসান ফাহাদ নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেন বলে জানা যায়। ২০১৯ সালের ( ৪ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভোলা সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের তিন তলা থেকে ইয়াবা সেবনকালে এদের আটক করা হয়। আটক মাহমুদুল হাসান ফাহাদ হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দা ও জসিম উদ্দিন মনপুরা উপজেলার অফিস সহায়ক ও সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে পুলিশ সেই সময় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। ওই সময়কার ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছগির মিঞা আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ইয়াবাসহ আটক মাহমুদুল হাসান ফাহাদ একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী ও জসিম উদ্দিন তার একান্ত সহযোগী। তাদের দু’জনের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছিল। বেশ কিছুদিন কারাভোগের পর ফাহাদ জামিনে মুক্ত হয়ে ফের মাদক ব্যবসা শুরু করেন বলে জেলার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে তথ্য রয়েছে। সূ্ত্রমতে, মাহমুদুল হাসান ফাহাদ শুধু মাদক কারবারী-ই নন সে রীতিমতো একজন চিহ্নিত নারীবাজ হিসেবে ভোলা শহরের সূ-শীল সমাজের সকলের কাছে ধিকৃত। তথ্যানুসন্ধানকালে ভোলার কালীবাড়ি রোডস্থ নবুবী মসজিদ এলাকার বাসিন্দারা জানান, চরিত্রহীন ও লম্পট ফাহাদ ওই এলাকার প্রবাসী বাসিন্দা নিজাম উদ্দিনের স্ত্রীকে পরকিয়া প্রেমের ফাঁদে ফেলে তার সাজানো সুখের সংসারটি ভেঙ্গে তচনছ করে দেন। একপর্যায়ে এক সন্তানের জনক ওই প্রবাসীর স্ত্রীকে বাগিয়ে বিয়ে করেন ফাহাদ। ধূরন্ধাজ এ লম্পট শুধু প্রবাসীর স্ত্রীকে পটিয়েই ক্ষ্যান্ত হননি, তার কষ্টের টাকায় নির্মিত তিন তলা বিশিষ্ট ফ্ল্যাট বাড়ীটিও দখল করে বসেন ফাহাদ। ওইসময় সেই ঘটনাটি নিয়ে ভোলা পৌরসভায় কয়েকবার শালীশিতে বসেন ওয়ার্ড কাউন্সিলররা। তখন ন্যাক্কারজনক এমন ঘটনায় শহরের ক্ষুদ্ধ মানুষ ফাহাদের লাম্পট্যের বিরুদ্ধে ভোলা শহরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। কালীবাড়ি এলাকার ধর্মপ্রান মানুষ নারীবাজ ফাহাদকে মহল্লা থেকে তাড়িয়ে দেন। কিন্তু মাদক কারবারী এই সন্ত্রাসীর কবল থেকে প্রবাসী নিজাম এখনো ওই বাড়িটি উদ্ধার করতে পারেননি বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। কালীবাড়ী সড়কের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নাছির আহমেদসহ এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, লাম্পট্য ও নারীবাজীর কারনে পৌর মেয়র মনিরুজ্জামান স্বয়ং ফাহাদকে পিটিয়ে শায়েস্তা করেছিলেন। তবুও নির্লজ্জ ফাহাদ প্রবাসীর স্ত্রী মুক্তা বেগমকে বাবা-মা সহ ওই বাড়ীতে জোড়পূর্বক দখলদার হিসেবে বসিয়ে রেখেছেন। সেই সময়কার ওই ঘটনাটি ভোলায় টক অব দ্যা টাউনে পরিনত হয়। বর্তমানে মাদক ব্যবসায়ী ফাহাদের বেপরোয়া ইয়াবা কারবারে যেমনি সাংবাদিকদের মান ক্ষুন্ন হচ্ছে তেমনি নষ্ট হচ্ছে ভোলার যুব সমাজ। তবে মাদক কারবারে নিজে জড়িত নয় বলে দাবী করেন ফাহাদ। এ ব্যাপারে ভোলা সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এনায়েত হোসেন জানান, ফাহাদের মাদক কারবারের বিষয়টি তাদের নখদর্পনে রয়েছে। যেকোন মূহুর্তে মাদকসহ ফাহাদ পুলিশের জালে ধরা পড়বেন বলেও জানান তিনি।