বগুড়ার ৩টি কেন্দ্রে আবারও সিনোফার্মের টিকা প্রদান বন্ধ থাকবে

বগুড়ায় চীনের তৈরি সিনোফার্মের টিকার আবারও সংকট দেখা দিয়েছে। যে কারণে মঙ্গলবার থেকে শহরের মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল,শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে কেন্দ্রে সিনোফার্মের টিকা প্রদান কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় আপাতত সিনোফার্মের টিকা প্রদান কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। পরবর্তীতে বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে তা আবার চালু হবে। কবে নাগাদ টিকা প্রদান শুরু হবে তা কর্মকর্তারা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।তবে শহরের ৩টি কেন্দ্রে টিকা প্রদান বন্ধ থাকলেও জেলার উপজেলা পর্যায়ে যেসব স্থানে টিকার মজুদ রয়েছে সেসব কেন্দ্রে আগের মতই টিকা প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। অবশ্য কোন কোন উপজেলায় টিকার সন্তোষজনক মজুদ রয়েছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত কোন তথ্য স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অ্যাস্ট্রোজেনেকার দ্বিতীয় ডোজের টিকা প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। অবশ্য ওই টিকা শহরের মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল ও শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কেন্দ্রে দেওয়া হবে।এর আগে মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় গত ১২ আগস্ট সিনোফার্মের টিকা প্রদান কার্যক্রম বন্ধ ছিল। পরর্তীতে ১৩ আগস্ট শুক্রবার ঢাকা থেকে নতুন করে ৩১ হাজার ২০০ ডোক টিকা আসায় পরদিন ১৪ আগস্ট শনিবার এবং ১৬ আগস্ট সোমবার টিকা প্রদান করা হয়।স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়ায় মেডিকেল শিক্ষার্থী ও স্টাফদের ওপর প্রয়োগের মাধ্যমে গত ১৯ জুন সিনোফার্মের টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ১ জুলাই থেকে নির্দিষ্ট বয়সের সাধারণ মানুষকে টিকার আওতায় আনা হয়। এছাড়া গত ৭ আগস্ট জেলার ১০৯টি ইউনিয়নের সবগুলোতে এবং ১২টি পৌরসভার মধ্যে ২টিতে গণটিকা কার্যক্রম চালানো হয়।সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী বগুড়ায় ১৩ আগস্ট পর্যন্ত সিনোফার্মের মোট ২ লাখ ৩০ হাজার ৮০০ ডোজ টিকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে বগুড়া সদরেই ৫৫ হাজার ৪৯৭জনকে টিকা প্রদান করা হয়েছে।কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গণটিকা কার্যক্রম সফল করতে গিয়েই টিকার সংকট তৈরি হয়েছে। গণটিকা কর্মসূচীতে ৭১ হাজার ৪০০ মানুষকে টিকা দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তার আওতা বেড়ে যায়।বগুড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সামির হোসেন মিশু জানান, চাহিদার তুলনায় টিকার মজুদ কমে আসায় মঙ্গলবার থেকে শহরের তিনটি কেন্দ্রে সিনোফার্মার প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজের টিকা প্রদান বন্ধ থাকবে। তিনি বলেন, বরাদ্দ পেলে আবারও টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু করা হবে। তবে মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল ও শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কেন্দ্রে অ্যাস্ট্রোজেনেকার দ্বিতীয় ডোজের টিকা প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জানান, শহরের তিনটি কেন্দ্রে টিকা প্রদান কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও জেলার উপজেলা পর্যায়ে যেসব কেন্দ্রে টিকার সন্তষজনক মজুদ রয়েছে সেগুলোতে আগের মতই সিনোফার্মের টিকা প্রদান কার্যক্রম চলবে।