সারিয়াকান্দিতে পুলিশ হয়রানির অভিযোগে পৌর কাউন্সিলরসহ গ্রেফতার ২

পাভেল মিয়া, সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়া সারিয়াকান্দির পৌর কাউন্সিলর গ্রেফতার হয়েছেন। সারিয়াকান্দি দলিল লেখক সমিতিতে চাঁদাবাজি এবং পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে থানা পুলিশ তার বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে তাকে এবং তার বড় ভাইকে আটক করেছে। আটক আপেল মাহমুদ রনি (৩২) গত পৌর নির্বাচনে ৪নং ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। সে কুপতলা সাহাপাড়া গ্রামের মৃত জাইদালী সরদারের ছেলে।
অপর আটক তার বড়ভাই জনি মিয়ার (৪৩) বিরুদ্ধে সারিয়াকান্দি এবং গাবতলি থানায় হত্যা, মাদকদ্রব্য এবং বিস্ফোরক দ্রব্যসহ ১১ টির বেশি মামলা রয়েছে।
মামলার অন্যান্য আসামিরা হল কুপতলা সাহাপাড়া গ্রামের বনিজ মোল্লার ছেলে মোঃ মাসুম মিয়া (২৮), মোঃ শাওন মিয়া (২৫), চর রামনগর গ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে মোঃ শহিদুল ইসলাম (৩৪)। মামলার অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে ৩৪ জন।
অভিযোগকারী সারিয়াকান্দি সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সদস্য মিজানুর রহমান (৪০) জানান, কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী গত কয়েকদিন ধরে আমাদের সমিতি হতে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অসম্মতি প্রকাশ করায় তারা গত ১২ আগষ্ট আমাদের দলিল লেখক সেরেস্তায় এসে সমিতির অপর সদস্য আশিকুরকে মেরে মারাত্মকভাবে জখম করে। সে প্রাণভয়ে পার্শ্ববর্তী গাবতলি উপজেলার হাসপালে ভর্তি হয়। আমি আগাইতে গেলে আমাকেও মারাত্মকভাবে জখম করে এবং আমার গচ্ছিত টাকা নিয়ে চলে যায়। আমি বিষয়টি সম্পর্কে সারিয়াকান্দি থানায় গত ১৪ আগষ্ট অভিযোগ দাখিল করছি। গত শনিবার এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি প্রেস ক্লাবে আমি সংবাদ সম্মেলনও করেছি। তারা উপজেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং চাঁদাবাজ। বাদী মিজানুর রহমান পৌর এলাকার ধাপ গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে। অপর আহত আশিক নারচী ফকিরপাড়ার মৃত শামসুল আলমের ছেলে।
সারিয়াকান্দি থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক কাজী নজরুল ইসলাম জানান, দলিল লেখক সমিতিতে চাঁদাবাজির অভিযোগে আমি এবং আমার সংগীয় উপ পুলিশ পরিদর্শক বাবর আলী, মাহমুদুর রহমান, সহকারী উপ পুলিশ পরিদর্শক কামরুল হোসেনসহ ২ জন কনস্টেবল নিয়ে গত সোমবার রাতে কাউন্সিলর রনির বাড়ীতে যাই।এসময় তারা “ডাকাত ডাকাত” বলতে বলতে আমাদের উপর হামলা চালায়। এতে আমাদের সংগীয় উপ পুলিশ পরিদর্শক বাবর আলী এবং কনস্টেবল মাহবুব ও রুবেল ওরাও মারাত্মকভাবে আহত হন। তাদের সারিয়াকান্দি হাসপালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পরে আমাদের একান্ত প্রচেষ্টায় আসামী পৌর কাউন্সিলর রনি ও তার বড়ভাই শীর্ষ সন্ত্রাসী জনিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি।
এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান, অভিযুক্ত পৌর কাউন্সিলর ও তার বড়ভাইকে ১৮৬০ পেনাল কোডে ৯ টি ধারায় চাঁদাবাজি এবং পুলিশ হয়রানির অভিযোগে মঙ্গলবার দুপুরে তাদের বগুড়া আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।