করোনার টিকা প্রদানে আমরা একেই বারে সর্বনিম্ন পর্যায়ে আছি জি.এম কাদের

স্টাফ রিপোর্টার-জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি.এম কাদের বলেছেন, করোনার টিকা প্রদানে সরকারকে আমরা আমাদের বিভিন্ন দিক নিদের্শনা দিয়েছি। ইতিমধ্যে সরকার কিছু কিছু কাজ করছেন। তবে আমরা এখনি সন্তোষ্ট নই। টিকা যেভাবে দেয়া হয়েছে, এটাতে আমরা যেটা দেখতে পাচ্ছি, সারাবিশ্বে যে সব দেশ পিছিয়ে আছে, তার মধ্যে দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার সমস্ত দেশগুলোর মধ্যে আমরা একেই বারে সর্বনিম্ন পর্যায়ে আছি। আমাদের টিকার যে পার্সেন্টেন্স, সেটা ২ থেকে ৩ পার্সেন্টের ভিতরে, এর বেশি নয়। অন্যান্য অনেক দেশে ৭০ থেকে ৮০ পার্সেন্টের উপর চলে গেছে। সেই হিসেবে আমরা মনে করি যে, সরকারকে টিকা এ্যাভেল্যাবেল করতে হবে এবং টিকা দেয়ার যে ব্যবস্থাপনা, সেখানে সার্বিকভাবে অব্যবস্থানা লক্ষ্যকরা যাচ্ছে। সে বিষয়ে সরকারের নজর দিতে হবে। যাতে সাধারণ মানুষ কষ্ট না করে সাভাবিকভাবে টিকা দিতে পারে।
গতকাল বুধবার রংপুর নগরীর দর্শনাস্থ পল্লী নিবাসে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
জি.এম কাদের বলেন, টিকা দিতে গিয়ে মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। যেহেতু কেন্দ্র গুলোতে অনেক জায়গায় কোনো রকম শৃংখলা নেই, আমাদের জানামতে রংপুরে ভালোভাবে টিকাদান কর্মসূচি হয়েছে, কিন্তু ঢাকার অনেক স্থানে মারামারীসহ অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। সবচে বড় ঘটনা হচ্ছে যেটা, সেটা হচ্ছে আমরা করোনা রোগ নিবৃত করা জন্য টিকা দিচ্ছি, সেখানে করোনা রোগের বিস্তারের সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। এটা আমি মনে করি সরকারের বড় ব্যর্থতা। বিশেষ করে যারা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তাদেরকে এই বিষয় জবাবদিহির আওতায় আনা উচিৎ। মানুষের যদি জীবনেই না থাকে, তাহলে অন্যকোনো উন্নয়নের কোনো অর্থ থাকেনা, করোনা কালিন অবস্থায় লকডাউন, আমরা বারংবার বলেছি করোনা কালে লকডাউন কখনই সফল হবেনা। সরকারের কাছে আমাদের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিলো যে, লকডাউন যদি দিতেই হয়, তবে যারা গরীব রয়েছে, তাদের মধ্যে দুই কোটি মানুষকে ১০ হাজার টাকা করে মাসে যদি আপনারা দেন তাহলে তাদেরকে লকযাউনের জন্য বাদ্ধ করার জন্য চেষ্টা করতে পারেন। যাদের পেটে খাবার নেই, বাচ্চারা দুধের আভাবে কাদে, ওষুধের অভাবে মারা যায় মানুষ, সে সব জায়গায় জোর করে ঘরের ভিতরে মানুষকে আটকে রাখা কখনি সম্ভব নয়। আমরা এ প্রস্তাব দিয়েছি।
তিনি বলেন, এটাতে মাসে লাগতো প্রায় ২০হাজার কোটি টাকা। এক মাস দিলে আমার মনে হয় এ সমস্যা সমাধাণ হত। তবে সরকার এবিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো রকম পদক্ষেপ নেন নি। আমরা মনে করি যে, সরকারকে মানুষের জীবনের দিকে আরো বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিৎ। বাজেটে আমাদের সাড়ে ৬লক্ষ্য কোটি টাকার মত বাজেট হয়েছে, সেই টাকা তো আমরাই যোগান দিবো। সাধারণ জনগণই তার যোগান দিবে। আজ তারা যদি বেচে না থাকে তাহালে অন্যান্য যেকোনো উন্নয়নের প্রয়োজন কি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, রংপুর মহানগর সভাপতি ও রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোঃ মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, জাতীয় সংসদ সদস্য মোঃ আদেলুর রহমান আদেল, জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ও রংপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও রংপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাক, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও জেলার সহ-সভাপতি মোঃ আজমল হোসেন লেবু, কেন্দ্রীয় সদস্য ও মহানগর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ লোকমান হোসেন, কেন্দ্রীয় সদস্য ও মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জাহেদুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্র সমাজ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন, গোবিন্দগঞ্জ জাপা নেতা মসিউর রহমান, জাতীয় যুব সংহতির রংপুর জেলা শাখার সভাপতি হাসানুজ্জামান নাজিম, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, জাতীয় যুব সংহতির রংপুর মহানগর সভাপতি মোঃ শাহিন হোসেন জাকির, সাধারণ সম্পাদক শান্তি কাদেরী, জাতীয় ছাত্র সমাজ রংপুর জেলা কমিটির আহবায়ক আরিফুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক নেতা লুতু, নুরইসলাম, ছাত্র নেতা আরিফসহ জাতীয় পার্টি ও তার অঙ্গ সহযোগি সংগঠনসমূহের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় সৈয়দপুর বিমান বন্দরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি.এম কাদেরকে অভ্যার্থনা জানান জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, রংপুর মহানগর সভাপতি ও রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোঃ মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, জাতীয় সংসদ সদস্য মোঃ আদেলুর রহমান আদেল, জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ও রংপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও রংপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাক, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও জেলার সহ-সভাপতি মোঃ আজমল হোসেন লেবু, কেন্দ্রীয় সদস্য ও মহানগর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ লোকমান হোসেন, কেন্দ্রীয় সদস্য ও মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জাহেদুল ইসলাম ও জাতীয় ছাত্র সমাজ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন। ###