সৌদি আরবের কয়েকটি শহরে হামলা

সৌদি আরবের কয়েকটি শহরে ১৪টি ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। শনিবার (২০ নভেম্বর) জেদ্দায় অবস্থিত সৌদির তেল কোম্পানি এরামকোর স্থাপনাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে হামলা চালানো হয়। এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ১৩টি হামলা চালিয়েছিল। সেই আগ্রাসনের জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। হুথি বিদ্রোহীদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, জেদ্দার এরামকোর তেল শোধনাগারসহ রিয়াদ, জেদ্দা, আবহা, জিজান ও নাজনারের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসা তিনটি ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। হামলার ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়নি সৌদির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল তোম্পানি এরামকো। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন করে। জোটটি ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে প্রায় প্রতিদিনের হামলার খবর জানিয়েছে। প্রতিটি হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে। বিদ্রোহীরা কয়েক মাস ধরে মারিবের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়েছে, তারা খুব কমই ক্ষতির বিষয়ে মন্তব্য করে। বার্তাসংস্থা এএফপির হিসাবে, অক্টোবর থেকে বিমান হামলায় সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হুতি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াই তীব্র রূপ নিয়েছে। কিছুদিন আগে জাতিসংঘ জানিয়েছে, মারিবে সেপ্টেম্বরের লড়াইয়ে ১০ হাজার লোক ঘরছাড়া হয়েছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক সমর্থিত সরকারের সর্বশেষ ঘাঁটি মারিবের সংঘাতে মানবিক বিপর্যয় আরও চরম রূপ নিয়েছে। গেল মাস থেকে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিতে অভিযান শুরু করেছে হুতিরা। শিয়া হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি বাহিনীকে বিমান হামলার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সাত বছরের যুদ্ধে ইয়েমেনে মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। ২০১৪ সালে মারিবের ১২০ কিলোমিটার পশ্চিমে রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ নেয় হুতিরা। এরপর থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বিমান হামলা শুরু করেছে। এতে হাজার হাজার ইয়েমেনি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন কয়েক লাখ। দেশটি এখন দুর্ভিক্ষের কিনারে গিয়ে ঠেকেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।