কুড়িগ্রামে মামলা থেকে বাঁচতে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।।কুড়িগ্রামে মিথ্যা মামলা, হয়রানি ও জীবননাশের হুমকি থেকে মুক্তি পেতে সংবাদ সম্মেলন করেছে এক ভুক্তভোগী পরিবার। সোমবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবস্থ সৈয়দ শামসুল হক মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে নিজেদের অসহায়ত্বের বর্ণনা দেন অভিযোগকারী মোহাম্মদ আলী। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, কুড়িগ্রাম পৌরসভাধীন ভেলাকোপা গ্রামের কেচাপাড়ার অধিবাসী মোহাম্মদ আলীর পৈত্রিক বসতভিটার পেছনে কুড়িগ্রাম শহরের পুরাতন থানাপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী সাইফুদ্দিন এ্যাপেলো ১৭ শতক জমি কেনেন। তিনি সেখানে ময়দা মিলের স্থাপনা তৈরির উদ্যোগ নেন। কিন্তু মেইন রাস্তার সাথে স্থাপনায় যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। সেখানে অভিযোগকারী মোহাম্মদ আলীর পৈত্রিক বসতভিটা রয়েছে। প্রথমে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে উচ্ছেদের চেষ্টা করেন ভূমিদস্যু এ্যাপেলো। সেটি করতে না পেরে পরবর্তীতে সন্ত্রাসীদের নিয়ে জমি জবরদখলের চেষ্টা করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে জমি রক্ষায় কুড়িগ্রাম সদর সিনিয়র সহকারি জজ আদালতে ইনজাংশন মোকদ্দমা দায়ের করেন মোহাম্মদ আলীর ছেলে হামিদুল ইসলাম। এতে নোটিশপ্রাপ্ত হয়ে বিবাদীপক্ষ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে বাদীদের হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত করতে ৩টি চাঁদাবাজি ও ১০৭ ধারায় মামলা দেন। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের প্রধান আলু ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীসহ তার ৫ ছেলে দুই দফায় প্রায় ১৮দিন কারাবাস ভোগ করেন। এতেও বসতভিটার ৩ শতক জমি দখল করতে না পেরে বাদীদের কোনঠাসা করতে নানারকম অপতৎপরতাসহ জীবননাশের হুমকি দেন বিবাদী সাইফুদ্দিন এ্যাপেলো তার ভাই মো. শামসুদ্দিন, সোহরাব আলী ও মৃত হাসমত উল্যাহর ছেলে নিজাম উদ্দিন গং। বাদী মোহাম্মদ আলী ও তার পরিবারের আশঙ্কা, বিবাদীরা বড় ক্ষতি করার মানসে ভাড়াটিয়া মহিলা দ্বারা মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলা বা বাড়িতে মাদক রেখে পুলিশি হয়রানি করতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়, ময়দা মিলের জন্য যে জমি ক্রয় করা হয়েছে তার চারপাশে প্রায় ৫০টি পরিবার রয়েছে। এখানে ময়দার মিল করা হলে পরিবারগুলো চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়বে। এ জন্য সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্তপূর্বক প্রকৃত ঘটনা জেনে হুমকিদাতা সাইফুদ্দিন এ্যাপেলোর নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে আর্তি জানায় পরিবারটি।