ভোগডাঙ্গায় সোমবার রাতে নৌকা মার্কার কর্মীর হামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী আহত

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নৌকা মার্কার কর্মীর হামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী( আনারস প্রতীক) সাইদুর রহমানের কর্মী আহত সহ গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় কুড়িগ্রামের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন সাধারণ ভোটাররা। স্থানীয়রা বলছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নষ্টের পাঁয়তারা চলছে। এই অবস্থায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও আইনগত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভোটাররা। সোমবার (২২ নভেম্বর) রাত ১০ টার দিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইদুর রহমান এর কর্মী ১৫/২০ টি মোটরসাইকেল নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণার জন্য ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামের দিকে যায়। এ সময় মালিপাড়া গ্রামের সাবেক মেম্বার হবির বাসার সামনে প্রতিপক্ষ নৌকা মার্কার কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে স্বতন্ত্রপ্রর্থীর কয়েকজন কর্মী আহত সহ ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তারমধ্যে ৪ জন গুরুতর আহত হয়ে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে বলে আনারস প্রতীকের ছোটো ভাই কাইয়ুম নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বলেন, ‘নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে পরিস্থিতি ততই উত্তপ্ত হচ্ছে। আমরা ভোটাররা আতঙ্কে আছি। এমন ভীতিকর অবস্থা চলতে থাকলে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাবে কিনা সন্দেহ আছে।’ এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বিক পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাপ উদ্দিন এবং আনারস প্রতীক নিয়ে লড়ছেন ৩ বারের নির্বাচিত বর্তমান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব সাইদুর রহমান। আগামী ২৮ নভেম্বর এই ইউনিয়নে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। হামলার বিষয়ে আনারস প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব সাইদুর রহমানের ছোট ভাই কাইয়ুম বলেন, ‘সোমবার রাত সাড়ে ১০:টার দিকে আমাদের কর্মীরা পরমালি মৌজায় প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এ সময় মালিপাড়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য হবির বাড়ির সামনে পৌঁছিলে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর কয়েকজন কর্মী আমাদের কর্মীদের উপর পূর্ব পরিকল্পিতভাবে অতর্কিত হামলা চালায। এতে আমাদের কয়েকজন কর্মী আহত হয়। তারমধ্যে গুরুতর আহত হয় ৪ জন এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় ১০ টি। স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকের আলহাজ্ব সাইদুর রহমান জানান, তার কর্মীদের প্রচারণায় বাধা দিচ্ছেন নৌকা প্রতীকের নেতাকর্মীরা। প্রতিনিয়ত তার কর্মীদের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি হামলা চালানো হচ্ছে। সোমবারের নৌকা মার্কার কর্মীরা হামলায় তার বেশ কয়েকজন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। নির্বাচনি প্রচারণার পোস্টার-ব্যানার টানাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং কিছু এলাকায় পোস্টার লাগাতে দেওয়াও হচ্ছে না। এই প্রার্থী আরো বলেন, ‘ রাতে আমার কর্মীদের ওপর হামলা চালায় তারা (আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা)। আমার কর্মী কয়েকজন আহত হয়েছে। তারমধ্যে ৪ জন হামলার শিকারে গুরুতর আহত অবস্থায় সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে এবং ১০ টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। মা-বোনদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আমি ও আমার কর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’ আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ইউনিয়নের বাইরে থেকে লোকজন নিয়ে এসে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে জানিয়ে সাইদুর রহমান বলেন, ‘সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আজ রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেবো।’ ওই ইউনিয়নের নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বলেন, ‘গতকালের (সোমবার রাতের) ঘটনা ছিল এক ধরনের ওয়ার্মআপ। আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ তবে যেকোনোভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু করার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ স্থানীয় প্রশাসন। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশি তৎপরতা জোরদার রয়েছে বলে জানা গেছ।’তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী গোলাপ উদ্দিন।