বগুড়া শহরে আইন লংঘন করে তামাকজাত পণ্য বিক্রি হচ্ছে

সংবাদবিজ্ঞপ্তি-সম্প্রতি তামাকজাত পণ্য বিক্রি পর্যবেক্ষণকালে দেখা যায়,সাতমাথা,থানা রোড,   নবাববাড়ী রোড,বড়গোলা,জলেশ্বরীতলা,মালতীনগর,ফতেহআলী ব্রীজ,চেলোপাড়া,বখশিবাজার নাটাইপাড়া বউবাজার,শিববাটি,দত্তবাড়ী এলাকায় সিগারেট কোম্পানীর সরবরাহকরা আকর্ষণীয় বাক্স গণপরিসর ও দোকানের মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে।বাক্সের মধ্যে সিগারেটের প্যাকেট ও তামাকজাত দ্রব্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এই বাক্সের সামনের স্বচ্ছ কাঁচ দিয়ে সিগারেটের প্যাকেট ও তামাকজাত দ্রব্য দেখা যায়।প্রতিদিন ঐ দোকানগুলোর আশেপাশের এলাকা শত শত শিক্ষার্থী চলাচল করে।এতে করে কোমলমতি শিক্ষার্থী এর্ অধূমপায়ী জনগণ তামাক সেবনে উদ্বুদ্ধ হতে পারে।যা জনকল্যাণে প্রণীত ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার(নিয়ন্ত্রণ)আইন এর ৫ধারার সুস্পষ্ট লংঘন।বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুসারে,তামাক ব্যবহারকারীদের অন্যান্যদের তুলনায় করোনায় আক্রান্ত হবার ঝুঁকি ১৪ গুণ বেশি।

স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯-এর ধারা ১১.১ (খাদ্য ও পানীয় দ্রব্যাদি) অনুসারে সিটি কর্পোরেশন খাদ্য ও পানীয় দ্রব্যাদি বিক্রয়ের উপর লাইসেন্স আরোপ এবং ভ্রাম্যমান বিক্রয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা উল্লেখ করা হয়েছে এবং পৌরসভা আদর্শ কর তফসিল, ২০১৪ এর ৬ এ পেশা, ব্যবসা-বাণিজ্য, জীবিকা-বৃত্তি, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদির উপর কর আরোপ, সিগারেটের দোকানগুলোতে লাইসেন্স প্রদান করার বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।এই নির্দেশনা অনুসারে, তামাকজাত বিক্রেতাদের লাইসেন্সের আওতায় এনে বিক্রয় সীমিতকরণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারজনিত কারণে সৃষ্ট রোগ যেমন, ক্যান্সার, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়া, উচ্চ রক্তচাপ এসব কারণে মৃত্যুমুখে পতিত হবে। অধিকন্তু লাখ লাখ যুবক সিগারেট সেবন দিয়ে নেশার জগতে হাতেখড়ি নিয়ে তার পর ইয়াবা, ড্যান্ডি, হেরোইন, আইস প্রভৃতি সেবনের পথ ধরে জীবনকে ব্যর্থ ও নিঃশেষ করবে।

বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট ও বগুড়ার সহযোগী সংগঠন পেভ স্বাস্থ্যঝুঁকি ও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের কথা বিবেচনা করে উক্ত প্রচারমূলক বাক্স অপসারণ ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।