রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী প্রধান বিচারপতির সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিদায়ী প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে তিনি এ সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রপতি কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচারকার্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তিতে গতিশীলতা আনার জন্য বিদায়ী প্রধান বিচারপতিকে ধন্যবাদ জানান। সাক্ষাৎ শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘এটি ছিল রাষ্ট্রপতির সাথে বিদায়ী প্রধান বিচারপতির একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ।’ দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে বিচারপ্রার্থী জনগণের মহান আশ্রয়স্থল হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি হামিদ দেশের বিচার বিভাগের সার্বিক উন্নয়নে তার উদ্যোগেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন। এদিকে, প্রধান বিচারপতি তার দায়িত্ব পালনে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এসময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এসএম সালাহ উদ্দিন ইসলাম, প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন ও সচিব (সংযুক্ত) মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন। দেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের বয়স ৬৭ বছর পূর্ণ হচ্ছে ৩১ ডিসেম্বর। সে হিসাবে বছরের শেষ দিনে অবসরে যাচ্ছেন ২২তম প্রধান বিচারপতি। ৩১ ডিসেম্বর শুক্রবার হওয়ায় ৩০ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) শেষ কর্মদিবস তার। এদিকে দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি হতে যাচ্ছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনের পর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ শপথ পড়াবেন। সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন। সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং প্রধান বিচারপতির সহিত পরামর্শ করিয়া রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগ করিবেন।’ তবে দীর্ঘদিনের রীতি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের যে বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেবেন, তার বিষয়ে সম্মতি দিয়ে প্রথমে আইন মন্ত্রণালয়কে জানাবেন। বর্তমানে আপিল বিভাগে পাঁচ বিচারকের মধ্যে বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন অবসরে গেলে বাকি থাকবেন চার বিচারক। তারা হলেন- বিচারপতি ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান ননী ও বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। ২০১৭ সালের ১০ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পদত্যাগ করার পর প্রায় ৩ মাস প্রধান বিচারপতির পদটি শূন্য ছিল। এ সময় জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে রুটিন দায়িত্ব পালন করছিলেন বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা। পরে বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ওই দিনই পদত্যাগ করেন বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা।