আগামী কয়েক দিন গ্যাসের চাপ কম থাকতে পারে

উৎপাদন কম ও এলএনজি আমদানি হওয়ায় আগামী কিছুদিন গ্যাস সঙ্কট চলতে পারে বাংলাদেশে। বুধবার (১২ জানুয়ারি) তিতাস গ্যাসের পক্ষ থেকে ১০ দিন সরবরাহে ঘাটতির কথা জানানো হয়। তিতাস গ্যাস এক জরুরি বার্তায় জানায়, ‘কারিগরি কারণে’ ১২ জানুয়ারি থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত তিতাস অধিভুক্ত এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে। এজন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখও প্রকাশ করা হয়। এ বিষয়ে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হারুনুর রশীদ মোল্লাহ্ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বিবিয়ানা ফিল্ডের একটা কূপ সংস্কার হচ্ছে। পাশাপাশি এলএনজি টার্মিনালগুলো থেকেও প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম আসছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৪০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কমে যাবে। এতে আনুপাতিক বণ্টনের হারে তিতাসের সরবরাহ লাইনে হয়তো ২০০ থেকে আড়াইশ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কমে যাবে। পেট্রোবাংলার এলএনজি শাখার ডিজিএম শাহ আলম সংবাদমাধ্যমকে জানান, গত ১১ জানুয়ারি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে ৪০১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এসেছিল। স্বাভাবিক সময়ে যেটা ৬৫০ থেকে ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত আসত। পেট্রোবাংলার মহাব্যবস্থাপক পর্যায়ের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিবিয়ানা গ্যাসফিল্ডে ২৬টি কূপ রয়েছে। সেখান থেকে ১২৫০ মিলিয়ন কিউবিক ফুট গ্যাস আসে। এখন সেখানে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। সেখানে গ্যাসের কিছুটা সঙ্কট হতে পারে। আমাদের কিছু কিছু কূপে মাঝে মধ্যে পানি ও বালু চলে আসে। শীতের দিনে গ্যাসের প্রেসারও কম থাকে। বাঙ্গুরা কূপেও একই ধরনের সমস্যা হচ্ছে। এসব কারণে গ্যাসের সঙ্কট হতে পারে। জানা গেছে, দেশীয় কূপগুলো থেকে গ্যাসের দৈনিক উৎপাদন ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি)। এর সঙ্গে এলএনজি থেকে ৭০০ এমএমসিএফডি যোগ হয়ে তিন হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস সরবরাহ হচ্ছিল। দুই মাস আগে সাগরে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ আংশিক বিকল হয়ে যাওয়ার পর এখন কূপের রক্ষণাবেক্ষণ শুরু হওয়ায় গ্যাস সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় তখন থেকেই ঢাকার কিছু কিছু অংশে ঘরে গ্যাস স্বল্পতার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল।