আদমদীঘিতে এক কর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

শিমুল  হাসান, আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার আদমদীঘিতে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় এমরান হোসেন মিশু (১৯) নামে এক আউটসোর্সিং কর্মীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ৮ টায় উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়ন বামনীগ্রাম আকন্দপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এমরান হোসেন মিশু ওই গ্রামের মৃত আশরাফুল ইসলামের ছেলে ও পেশায় একজন আউটসোর্সিংয়ের কর্মী। নিহত মিশুর মা সেলিনা বেওয়া বলেন, প্রতিদিনের ন্যায় নেটের (আউটসোর্সিং) কাজের
শেষে গভীর রাতে বাড়িতে ফিরে মিশু। এরপর খাবার খেয়ে নিজ ঘরে দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে
পড়ে এবং বিকেলে ঘুম থেকে উঠে কাজে যায়। মঙ্গলবার বিকেলে আমার প্রতিবেশীর
বাড়িতে অসুস্থ রোগীকে দেখতে যাই। সন্ধ্যার পর বাড়িতে এসে দেখি তখনও মিশুর ঘরের
দরজা বন্ধ। অনেক ডাকাডাকি পরেও ভিরত থেকে কোন সারা না দেওয়ায় মনে সন্দেহ জাগে।
কিছুক্ষণ পর বাহিরে থেকে এসে এক প্রতিবেশী বলে মিশুর ঘরের জানালা দিয়ে দেখা
যাচ্ছে বিছানার উপরে কেউ যানি ঝুলছে। তখন অন্য ঘরের সুরঙ্গ পথ দিয়ে ঘরের দরজা খুলে
দেখতে পাই ফ্যানের সাথে গলায় দড়ির ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছে মিশুর মরদেহ।
প্রতিবেশী আফরোজা ও তোফাজ্জল হোসেন বলেন, মিশুর বাবা গত ১০ বছর আগে ট্রেনের
নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন। এরপর তার মা ও দুই ছেলে সন্তান ও মেয়েকে নিয়ে
এই গ্রামে বসবাস করছিলেন। মিশুর সাথে গ্রামের কারও কোন বিরোধ নেই সে
কাজকর্ম নিয়েই থাকতো। তবে ৩-৪ বছর আগে মিশু গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার
চেষ্টা করছিলেন। তখন পরিবারের লোকজন ও আমরা প্রাথমিক চিকিৎসায় সুস্থ করে তুলি।
তার সাথে জ্বীন-ভূতের আছর আছে বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। একারনে তার মা
কবিরাজের কাছে চিকিৎসাও করিছে।
আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ জালাল উদ্দীন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারন জানা যাবে। তিনি আরও বলেন বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা  হয়েছে।