বদলগাছীতে শ্রমিক সংকট, দেড় মন ধানে মিলছে ১ জন শ্রমিক

আবু সাইদ বদলগাছীঃ নওগাঁর বদলগাছীতে শ্রমিক সংকটে দেড় মন ধানে মিলছে ১ জন শ্রমিক। এর কারনে বরো ধান কাটা মাড়াই খরচ বিঘা প্রতি ৫ থেকে ৯ হাজার টাকা পড়ছে। আবার কোন কোন কৃষক ধান কর্তন খরচা বাবদ আধা আধি ধান দিয়ে শ্রমিক খাটিয়ে কোন রকমে মাট থেকে বরো ধান ঘরে তুলছে। তার পর বৈরী আবহাওয়ার কারনে প্রায় প্রতি দিন কম বেশি বৃষ্টিপাত হওয়াই কৃষকের এখন মরার উপর খারার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে। ইদের আগে ও পরে দুই দপা কাল বৈশাখী শিলা বৃষ্টির কারনে শুয়ে পড়া ধান গুলি ভেজা অবস্থায় মাট থেকে তুলে খলিয়ানে আনতে পারলে ও রোদ না থাকায় ধানের প্রক্রিয়াজাত করতে চরম বিপাকে পরেছে। প্রতি বৎসর প্রায় কৃষক খাবার ধান রেখে কাঁচা ধান খলিয়ান থেকেই ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রি করে দিত। কিন্তু চলতি বৎসর মাটে পানি জমে থাকার কারনে ধান ভিজা থাকায় ব্যবসায়ীরা ও ধান ক্রয় করছে না। বাজারে ধানের মুল্য ও আশানুরুপ নয়। উপজেলার হাট বাজার গুলিতে বরো ধান বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৯ শত থেকে ১ হাজার টাকা মন। আর ১ থেকে দেড় মন ধানে মিলছে ১ জন শ্রমিক। ফলে ধান উৎপাদন ও কাটা মাড়াই খরচ বাদে কৃষকের লোকশান গুনতে হচ্ছে।
উপজেলার চাংলা গ্রামের কৃষক রশিদুল, লুৎফর রহমান জানান, অতি বৃষ্টির কারনে তাদের মাটে পানি জমে থাকায় শুয়ে পড়া ধান গুলিতে অঙ্কুর গজিয়ে উঠেছে। তবু ও মাট থেকে ধান তুলতে বাহির জেলা থেকে কিছু শ্রমিক এসেছে তাদের মাধ্যমে জমির প্রকার ভেদে ৫ থেকে ৯ হাজার টাকা ধান কাটা মাড়াই খরচ করতে হচ্ছে। আবার কোন শ্রমিক টাকার পরিবর্তে মন করা ১৫ কেজি ধান নিয়ে জমি থেকে ধান তুলে দিচ্ছে। এতে করে বিঘা প্রতি ৮ থেকে ৯ মন ধান দিয়ে কাটা মাড়াই করছে। অপর দিকে কালবৈশাখী ঝড়ের কারনে পূর্বেই ধান পানিতে শুয়ে পড়ে বেশির ভাগ ধান চিটায় পরিনত হয়েছে। বিধাই ফলন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। আগের বৎসর গুলিতে বদলগাছী উপজেলায় বিঘা প্রতি ২৮ থেকে ৩০ মন ধান ফলন হয়েছে। চলতি বৎসর সর্ব্বউচ্চ বিঘা প্রতি ১৫ থেকে ২০ মন হারে ফলন হচ্ছে। যার কারনে চলতি বৎসর বরো ধান উৎপাদন পুরুটাই লোকশান দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন মাট ঘুরে দেখা গেছে এখন পর্যন্ত ৫০ ভাগ ধান কর্তন করতে পারেনি কৃষকরা। বিশির ভাগ ধান মাটে পরে রয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছে, বরো ধান সম্পূর্ন কাটা মাড়াই করে ঘরে তুলতে আর ও দুই এক সপ্তাহ লাগবে। এর মুল কারন হিসেবে কৃষরা বলছে শ্রমিক সংকট ও বৈরী আবহাওয়া। আর দুই এক সপ্তাহ আবহাওয়া ভালো থাকলে লোকশান হলে ও ধান কাটা মাড়াই শেষ করতে পারবে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাসান আলী জানান, শ্রমিক সংকটের কারনে ধান কাটা মাড়াই নিয়ে কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছে। তবে গত কয়েকদিন থেকে উচ্চু মাট গুলিতে কমবাইন্ড হারভেষ্ট্রার মেশিন দিয়ে ধান কাটা মড়াই শুরু করছে বিঘা প্রতি ৩ হাজার টাকায়। এতে করে কিছু কৃষক উপকৃত হচ্ছে। তিনি আর ও জানান, উপজেলায় ভূতুর্কির মাধ্যমে সরকারী ভাবে বিক্রি করা ৪/৫ টা কমবাইন হারভেষ্ট্রার মেশিন রয়েছে। কিন্তু উপজেলায় কৃষরা তেমন গুরুত্ব না দেওয়ার কারনে মেশিন গুলি অন্য জেলায় ধান কাটা মাড়াই করতে আগেই চলে গেছে। উপজেলার কৃষক সচেতন হলে ৪/৫ টা মেশিন দিয়ে এক যোগে ধান কাটা মাড়াই চল্লে উপজেলার আন্তঃ অর্ধেক কৃষক মেশিনের সুফল পেত এবং কটা মাড়াই খরচ কম পরতো। এতে করে উপজেলার কৃষরা লাভবান হতো। চলতি বৎসর ধান কাটা শ্রমিক সংকট ও বৈরী আবহাওয়া থেকে কৃষকরা সচেতন হবে এবং আগামী বৎসর থেকে কমবাইন হারভেষ্ট্রার মেশিনে ধান কাটা মাড়াই বেশি হবে বলে আশাবাদ বাক্ত করেন।