বগুড়ায় ১৫ লাখে বিক্রির অপেক্ষায় জসীম ও যুবরাজ

সঞ্জু রায়, বগুড়া: আর কয়েকদিন পরেই পবিত্র ঈদ-ঊল আযহা। আর এই ঈদে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টিতে ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা দিয়ে থাকেন কুরবানি। আর কুরবানির এই ঈদে দেশের প্রতিটি স্থানেই এক প্রতিযোগিতা থাকে ভাল জাতের ও মানের পশু ক্রয়ের। আর সারা বছর পশু পালন করে কুরবানীর এই ঈদে পশু বিক্রয়ের মাধ্যমে কিছু রোজগারের আশায় থাকেন অনেক খামারি। শখের বসে লালন-পালন করা তেমনি বগুড়ার হোলস্টাইন ফ্রিজিয়ান জাতের দুটি ষাঁড় এইবার বগুড়ার অনেকের নজর কেড়েছে যাদের নাম জসীম ও যুবরাজ।
কুচকুচে কালো ও সাদা রংয়ের সুঠাম দেহের এই ষাড় দুটি শখের বসে পালন করেছেন বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের ভাগকোলা চেয়ারম্যান পাড়ার আব্দুল করিম যিনি পেশায় একজন ট্রাক চালক। এলাকায় সাড়া ফেলানো গরু দুটির দাম ট্রাক চালক করিম হাকিয়েছেন ১৫ লক্ষ টাকা যিনি এই ঈদেই ষাড় দুটি বিক্রি করতে পারবেন মর্মে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
জানা যায়, জসীম নামের ষাঁড়টির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ ফুট এবং উচ্চতা সাড়ে ৫ ফুট। ওজন প্রায় ৮‘শ ২০ কেজি বা সাড়ে ২০ মণ এবং যুবরাজ নামের ষাঁড়টির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬ ফুট এবং উচ্চতা সাড়ে ৪ ফুট। ওজন প্রায় ৭‘শ কেজি বা সাড়ে ১৭ মণ। দুই ষাঁড় এর বয়স চার বছর।
ষাড় দুটির মালিক আব্দুল করিম জানান, নিজ বাড়িতে তৈরি খামারে ফ্রিজিয়ান জাতের দুইটি বাছুরকে দেশীয় পদ্ধতিতে লালন পালন করেছেন। নিয়মিত খাবার ও পরিচর্যা করার ফলে দিনে দিনে এই গরুটির ওজন বেড়ে বড় হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ট্যাবলেট ও ইনজেকশন ছাড়াই সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে খড়, তাজা ঘাস, খৈল, ভূষি, চালের কুড়া, ভুট্টা, বুট ভাতসহ পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমে লালন পালন করা হয়েছে গরু দুটিকে। তিনি বলেন ১৫ লক্ষ দাম চাইলেও গরু দুইটি তিনি ১৩ থেকে ১৪ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। তবে গরুটি তিনি কোনো হাটে না নিয়ে বাড়ির খামারে রেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি ও বিবরণ দিয়ে বিক্রির চেষ্টা করছেন। কেউ যদি তার খামার থেকে গরুটি কিনতে চান তাহলে ০১৭৭৬-৩৮৭৬৫২ মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করার কথাও বলেন।
গুরু দুইটি দেখতে আসা সাব্বির রহমান সানভী ও অটো চালক মোমিন এর সাথে কথা বললে তারা জানান, শিবগঞ্জ উপজেলার এত বড় গরু তারা দেখেননি। গরু দুটির গঠন বেশ আকর্ষনীয়। কোরবানীর জন্য গরু দুটি বেশ বড় এবং সুঠাম দেহের। উল্লেখ্য, আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে বগুড়ায় মোট ১২টি উপজেলার ৪৬ হাজার ১৫ জন খামারি মোট ৪ লাখ ২৭ হাজার ২শ’ ৯৫টি গবাদি পশু কোরবানি যোগ্য করে তুলেছেন। এ বছর জেলায় কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে পশুর চাহিদা রয়েছে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৩শ’ ৭৫টি। চাহিদার অতিরিক্ত পশু রয়েছে ৬৭ হাজার ৯শ’ ২০টি মর্মে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।