আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে এসি ও আকাশ ডিটিএইচ

পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার বালিপাড়া গ্রামের ইকবাল সেপাই তার সরকারের দেয়া উপহারের ঘরে এসি লাগিয়েছেন, বসিয়েছেন আকাশ ডিটিএইচ! তিনি সচ্ছল হয়েও উপহারের ঘর পেয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয়রা জানান, ইকবাল সেপাই ওই এলাকার বালু ব্যবসায়ী। তিনি জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ইকবালের বাবা আলমগীর সেপাই ইন্দুরকানী থানা যুবলীগের সদস্য। ইন্দুরকানী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, করোনার প্রথম দিকে উপহারের ঘরের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয় ইকবালের। তখন তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। বালিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জাকির হোসেন অভিযোগ করেন, সচ্ছল হয়েও দলের প্রভাব খাটিয়ে উপহারের ঘর নিয়েছেন ইকবাল। এখন আবার ওই ঘরে এসি ও ডিশ অ্যান্টেনা লাগিয়েছেন। অথচ এলাকার অনেক দরিদ্র পরিবার ঘর পায়নি। তবে এলাকাবাসীর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইকবাল সেপাই জানান, ওই উপহারের ঘর যখন তিনি পেয়েছেন, তখন তিনি সত্যিই দরিদ্র ছিলেন। ইকবাল বলেন, ২০১৩ সালে টেকনিক্যাল স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে রাজমিস্ত্রি বাবার কাজে সহযোগিতা করে যে টাকা পেতেন তা দিয়ে কোনোরকমে লেখাপড়ার খরচ চালাতেন তিনি। এইচএসসিতে ভর্তি হলেও পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি তিনি। ২০১৭ সালে তিনি বেকার অবস্থায়ই বিয়ে করেন। তিনি বলেন, রাজমিস্ত্রি বাবার সহযোগী হিসেবে কাজ করে যে টাকা পেতাম তা দিয়ে ঘর ভাড়া দিয়ে সংসার চালাতেন তিনি। তার কোনও জায়গাজমিও ছিল না বলে জানান তিনি। পরে তার দাদির তিন শতক জমি বাবা তাকে দিলে ওই জমিতে উপজেলা প্রশাসন সরকারি ঘর করে দেয় বলে জানালেন তিনি। তিনি আরও বলেন, তার ঘরটি যেখানে তার আশপাশে কোনও গাছপালা না থাকায় সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ঘরের চাল প্রচণ্ড গরম হয়ে যায়। তার এক বছর বয়সী মেয়েটি গরমে কষ্ট পায়। এজন্য একটি এসি কিস্তিতে কিনে উপহারের ঘরে লাগিয়েছেন তিনি। তিনি জানান, মাত্র এক বছর আগে বালুর ব্যবসা শুরু করেন তিনি। পরে লোন নিয়ে দেড় লাখ টাকায় একটি ড্রেজার মেশিন কিনে বালু কেটে এলাকায় সরবরাহ করে প্রতিদিন দুই-তিন হাজার টাকা উপার্জন হয় তার। এখন কিছুটা সচ্ছল হওয়ায় আমার উপহারের ঘর পাওয়া নিয়ে সমালোচনা করছেন এলাকার কেউ কেউ, আক্ষেপ করে বলেন ইকবাল। ইন্দুরকানী উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, গৃহহীন হিসেবে বালিপাড়া গ্রামের ইকবাল সেপাইকে উপহারের একটি ঘর দেওয়া হয়েছে। তিনি সেই ঘরে এসি লাগিয়েছেন বলে শুনেছি। আমরা যখন তাকে উপহারের ঘর দিয়েছি, তখন তিনি দিনমজুর ছিলেন। ইন্দরুকানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লুৎফুন্নেছা খানম বলেন, কোনও সচ্ছল ব্যক্তি উপহারের ঘর পাওয়ার কথা নয়। সচ্ছল হয়েও তিনি কিভাবে উপহারের ঘর পেয়েছেন, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হবে।