শ্রেষ্ঠ জেলার স্বীকৃতিসহ রাজশাহী রেঞ্জে বগুড়ার ৬ পুলিশ কর্মকর্তার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন

সঞ্জু রায়, বগুড়া: বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি’র নির্দেশনায় পুলিশ সদর দপ্তর কর্তৃক প্রবর্তিত অভিন্ন মানদন্ডের মূল্যায়ন অনুযায়ী সার্বিক পুলিশিং কার্যক্রমের বিবেচনায় গত জুন মাসের কাজের ভিত্তিতে রাজশাহী রেঞ্জের ৮টি জেলার মাঝে শ্রেষ্ঠ জেলার মর্যাদা পেয়েছে বগুড়া জেলা পুলিশ।
রাজশাহী বিভাগের সকল জেলার মাঝে শ্রেষ্ঠ জেলার স্বীকৃতি লাভের মাধ্যমে পুলিশ সুপার হিসেবে বগুড়ায় যোগদানের ১১ মাসের মধ্যে ৭ম বারের মতো পুরস্কৃত হলেন বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবত্তীর্ বিপিএম।
এছাড়াও বিভাগে শ্রেষ্ঠ সার্কেল অফিসার হিসেবে বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরাফত ইসলাম, শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ হিসেবে বিভাগে ৭ম বারের মতো বগুড়া সদরের ওসি সেলিম রেজা, শ্রেষ্ঠ ইন্সপেক্টর তদন্ত হিসেবে সদর থানায় যোগদানের ৫ মাসে ৪র্থ বারের মতো বগুড়া সদর থানার জাহিদুল হক। এছাড়াও বিশেষ পুরস্কার হিসেবে শ্রেষ্ঠ এসআই হিসেবে শাজাহানপুর থানার আরিফুল ইসলাম এবং সদর থানার এএসআই ডন কংকন বর্মণ পুরস্কৃত হয়েছেন। শ্রেষ্ঠ পুলিশ ইউনিট হিসেবে বগুড়া জেলার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন সহ বিভাগের সকল জেলার মাঝে বগুড়া জেলা পুলিশ ইতিবাচক কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ এই মাসে মোট ৬টি পুরস্কার অর্জন করেছে যা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।
সোমবার সকালে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পদ্মা কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় সভাপতি হিসেবে পুরস্কার প্রাপ্ত সকল কর্মকর্তাদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন বাংলাদেশ পুলিশ রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আব্দুল বাতেন বিপিএম পিপিএম। পুরস্কার বিতরণের সময় এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন এ্যাডিশনাল ডিআইজি (প্রশাসন ও অর্থ), এ্যাডিশনাল ডিআইজি (অপারেশনস্ অ্যান্ড ক্রাইম)সহ রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পুলিশ সুপারগণ।
এ প্রসঙ্গে বগুড়া পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবত্তীর্ বিপিএম এর সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান, বগুড়া জেলা পুলিশের সকল পর্যায়ের সদস্যরা অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং সকলের পেশাদারিত্বের মাধ্যমে রাখা সামগ্রিক ভূমিকায় এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, নিরাপদ বগুড়া নির্মাণের জন্যে সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে জেলা পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছে যার মাঝে অপরাধ নির্মূল করা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করা, গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার দ্রুততম সময়ে রহস্য উন্মোচন, ৯৯৯ সার্ভিসে দ্রুত সেবা প্রদান, নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে প্রতিটি থানায় সন্তোষজনক সেবা প্রদান, চুরি, ডাকাতি, দস্যুতা, চাঁদাবাজি প্রতিরোধে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার, বিট পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করা, ওয়ারেন্ট তামিলে গুরুত্ব দেয়া সহ জেলায় সার্বিক পুলিশিং কার্যক্রম অত্যন্ত পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সাথে পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়াও পুলিশিং কার্যক্রমের পাশাপাশি বগুড়া জেলা পুলিশের সেবামূলক কার্যক্রমও বেশ প্রশংসিত হয়েছে বরাবরের মতোই যার ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও থাকবে।
পুলিশ সুপার সুদীপ চক্রবত্তীর্ আরো বলেন, জেলা ও বিভাগীয় পযার্য়ে এই স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের মাঝে একটি ইতিবাচক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে সকলের মাঝেই কর্মস্পৃহা জাগে এবং কোন কাজই পরে থাকেনা। পুরস্কার প্রাপ্তির এই ইতিবাচক প্রতিযোগিতায় সকলেই সেরা হওয়ার লড়াইয়ে নিজেদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন যা সত্যিই প্রশংসনীয়। এসপি বলেন, জনবান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থা প্রবর্তন পূর্বক অপরাধ নির্মূলের মাধ্যমে নিরাপদ বগুড়া গড়ে তুলতে জেলা পুলিশ বগুড়ার গর্বিত সদস্যগণ সর্বদা অঙ্গীকারাবদ্ধ ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।