১০ বছর আগে হারিয়ে ফেলা বাবা-মাকে ফিরে পাওয়ার আশায় রাহিম এখন সান্তাহারে

শিমুল  হাসান, আদমদীঘি (প্রতিনিধি)-১৪-১৫ বছরের ছেলে রাহিম হোসেন জুনাইদ। বাবা-মাকে হারিয়ে ফেলেছে প্রায় ১০ বছর আগে । সেই বাবা-মাকে ফিরে পাওয়ার আশায় রাহিম এখন বগুড়ার সান্তাহারে। আর যোগাযোগ করে এই উদ্যোগটি গ্রহণ করেছেন কেরানীগঞ্জের যুবক নাজমুল ইসলাম এবং সান্তাহার ইউপি চেয়ারম্যান নাহিদ সুলতানা তৃপ্তি ও সাংবাদিক নেহাল আহম্মেদ প্রান্ত।
ছেলেটির দেওয়া তথ্যমতে জানা যায়, আজ থেকে ৮-৯ বছর পূর্বে তার বড় ভাই ইব্রাহিমকে বিদেশ পাঠানোর উদ্দেশ্যে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসে রাহিমসহ তার বাবা-মা। বড় ভাইকে বিমানবন্দরে বিদায় দেয়ার সময় অসাবধানতাবশত ছেলেটি তার বাবা-মাকে হারিয়ে ফেলে। তখন ছেলেটির বয়স কম থাকার কারনে তার বাবা-মা বিভিন্ন জায়গায় অনেক খুঁজাখুঁজি করেও পায় না। ছেলেটি ভয়ে কান্না করতে লাগলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে এক পুলিশ কর্মকর্তার কাছে দিলে সেই পুলিশ কর্মকর্তা তাকে নারায়ণগঞ্জের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানেই ছেলেটির কেটে যায় প্রায় ৭-৮ বছর। এরপর আশ্রয়কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ তার দেয়া ঠিকানা অনুযায়ী খুঁজাখুঁজি করেও তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে পারে নি। এদিকে গত ১৮/০৭/২০২২ইং তারিখে ছেলেটি নিরুপায় হয়ে সেখান থেকে পালিয়ে কেরানীগঞ্জ এর বাবুবাজার ব্রীজ পার হয়ে জিনজিরা রসুলপুর টিনের মসজিদ ঘাট সংলগ্ন রাস্তার পাশে সন্ধ্যা থেকে বসে থাকে। সেখানে কিছু যুবক তাকে বসে থাকতে দেখে সন্দেহজনক মনে হলে তাকে  জিজ্ঞাসাবাদে সে বলে তার নাম রাহিম হোসেন জুনাইদ। তার বাড়ি বগুড়ার জেলার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নে বলে জানাই। পিতা জাকির বেপারী একজন ফলের ব্যবসায়ী এবং মাতা বিবি রহিমা। এই সকল তথ্য দিয়ে নাজমুল নামের এক যুবক ছেলেটির সন্ধ্যান চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পোস্ট করেন। এবং সান্তাহার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাহিদ সুলতানা তৃপ্তির সাথে যোগাযোগ করলে তৃপ্তি ছেলেটিকে সান্তাহারে পাঠাতে বলেন। তারই প্রেক্ষিতে রাহিম বাবা-মাকে ফিরে পাওয়ার আশায় এখন সান্তাহারে। ছেলেটিকে উদ্ধার করা কেরানীগঞ্জের যুবক নাজমুল ইমলাম মুঠোফোনে বলেন, আমাদের এলাকায় আমরা একটি ছেলেকে বসে থাকতে দেখি। তাকে দেখে সন্দেহ জনক মনে হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে তার পরিচয় ও ঠিকানা জানতে পারি। পরর্বতীতে বগুড়ার সান্তাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৃপ্তি ও সাংবাদিক সজীব হাসান, শিমুল হাসান, নেহালের সাথে যোগাযোগ করে তাকে সান্তাহারে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। সান্তাহার ইউপি চেয়ারম্যান নাহিদ সুলতানা তৃপ্তি বলেন, কেরানীগঞ্জ থেকে আমাকে এক যুবক ফোন দিয়ে বলেছিল রাহিম হোসেন জুনাইদ নামে একটি ছেলেকে সেখানে পাওয়া গেছে যার বাড়ি সান্তাহারে। ৯ বছর আগে ছেলেটি নাকি ঢাকাতে বাবা-মার কাছে থেকে হারিয়ে যায়। তারা ছেলেটিকে সান্তাহারে পাঠাতে চাইলে আমি তাদের পাঠাতে বলি এবং পুলিশের সহযোগিতা গ্রহণ করি যাতে ছেলেটি পরিবারের নিকট ফিরে যেতে পারে। বর্তমানে ছেলেটি সান্তাহারে আমার হেফাজতে আছে।