তানোরে আশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রির অভিযোগ

তানোর প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরের পাঁচন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নারিসম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচিত চেয়ারম্যান আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে এবার গৃহহীন এবং ভুমিহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার আশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। চলতি মাসের(২৩ জুলাই) ভুক্তভোগী ইউপির চাঁদপুর গ্রামের মৃত কুকরা শাহের পুত্র ময়েজ উদ্দিন (৭২) বাদি হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও’র কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। যার কপি সাংবাদিকদের কাছেও দিয়েছেন ভুক্তভোগী ময়েজ উদ্দিন। অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সাদেকুল ইসলামকে বিবাদী করা হয়েছে। এদিকে সরকারি বাড়ি বিক্রির এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা জুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে, উঠেছে সমালোচনার ঝড়। সেই সাথে উঠেছে চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন ও মেম্বার সাদেকুল ইসলামের শাস্তির দাবি। সচেতন মহলের ভাষ্য, আশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে অনিয়মের কারণে যদি ডিসি এবং ইউএনও সাহেবদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তাহলে নানা কারণে আলোচিত চেয়ারম্যান আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে কেনো শাস্তিমুলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে অপসারণ করা হচ্ছে না ? তার খুটির জোর কোথায় ? অভিযোগে প্রকাশ, প্রায় তিন মাস পুর্বে বিবাদীর বাড়িতে গিয়ে ঘর দেবার কথা বলে ইউপি চেয়ারম্যান মতিন ও মেম্বার সাদেকুল নগদ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে তাকে একটি ঘর দিয়েছেন। বিবাদী ময়েজ উদ্দিন প্রায় দেড়মাস ধরে সেই ঘরে বসবাস করছেন। জানা গেছে, গত ২১ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশ্রয়ণ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের ২য় ধাপে গৃহ ও ভূমিহীন পরিবারের মাঝে দেয়া ঘরের উদ্বোধন করেন। এদিন উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) প্রকৌশলী তারিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় ও নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পঙ্কজ চন্দ্র দেবনাথের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপকারভোগীদের মধ্যে ঘরের চাবি ও দলিল হস্তান্তর করেন সাংসদ প্রতিনিধি ও উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না। কিন্তু গত ২২ জুলাই শুক্রবার ভুক্তভোগী ময়েজ উদ্দিনকে বাড়ি থেকে নামতে বলেছেন চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন। এতে করে টাকা নিয়ে বাড়ি দেয়ার পরেও এখন বাড়ি থেকে নামতে বলাই চরম হতাশ হয়ে পড়েছেন ময়েজ উদ্দিন ও তার পরিবার। এবিষয়ে পাঁচন্দর ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিনের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে বলেন, আমি পার্টি অফিসে আছি পরে কথা বলবো বলে ফোনের লাইন কেটে দেন তিনি। তানোর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(পিআইও) তারিকুল ইসলাম বলেন, এখনো তিনি অভিযোগ পাননি,যদি এরকম ঘটনা হয়ে থাকে তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক, চেয়ারম্যান এর আগেও এমন কাজ করে একই বাড়িতে দুই বোনকে সরকারি বাড়ি দিয়েছেন। এবার তদন্ত করে যদি ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি। তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও পংকজ চন্দ্র দেবনাথ জানান, এখনো তিনি কোন অভিযোগ পাননি, যদি এমন জঘন্য ঘটনার সাথে কেউ জড়িত থাকে তাহলে অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।