তানোরে রত্না বেকারীতে অভিযান আটক ছাড় তোলপাড়

তানোর প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরে সেই বহুল আলোচিত রত্না বেকারী ও বিস্কুট ফেক্টরীতে অভিযান চালিয়ে মালিকের জামাইকে আটক করার পর ২৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ সহকারী পরিচালক মাসুম আলী বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এমনকি ভোক্তা অধিকারের টিমের সাথে অশালীন আচরণ করার অপরাধে রত্না বেকারীর মালিকের জামাই আনোয়ার হোসেন কে আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ঘটে এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এতে করে ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষের এমন কান্ডে এলাকা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। শুধু এটাই না প্রথমে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও দোকানে তালা মেরে রহস্য জনক কারনে মাত্র ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করে সব হালাল করে দেন বলে নিশ্চিত করেন প্রত্যাক্ষদর্শীরা। জানা গেছে, চলতি মাসের গত সপ্তাহে রত্না বেকারীর আড়ালে চলে মাদক ও জুয়ার কারবার এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ কোমল পানি নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বিস্কুট কেক পাওরুটিসহ যাবতীয় খাবার পন্য এমন শিরোনামে খবর প্রকাশিত হলে নজরে আসে কর্তৃপক্ষের। এঅবস্হায় মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ রাজশাহী জেলার সহকারী পরিচালক মাসুম আলীর নেতৃত্বে তানোর উপজেলার সীমান্তবর্তী কামারগাঁ ইউপি এলাকার চৌবাড়িয়া বাজারে অবস্হিত রত্না বেকারীতে চালানো হয় দীর্ঘ সময় অভিযান । অভিযানের খবর পেয়ে মালিক কামারগাঁ মালশিরা গ্রামের আব্দুর রশিদ লাপাত্তা হলে তার জামাই মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউপির চৌবাড়িয়া হাট সংলগ্ন ভাগনা পাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন স্হানীয় বখাটের নিয়ে তোপের মুখে ফেলেন অভিযান কারীদের। এক প্রকার বাধ্য হয়ে তাকে আটক করে সাথে থাকা পুলিশ সদস্যরা। শুরু হয় আপোষ মিমাংসার কার্যক্রম। এক পর্যায়ে আনোয়ারের ভাই সবুজ, হোসেন পুর গ্রামের সুমন আলী ও ইটাপাড়া গ্রামের সাবেক মেম্বার বিএনপি নেতা মান্নান সহ রত্না বেকারীর কর্মচারীর অভিযান কারীদের ঘিরে ফেলেন এবং আবল তাবল কথাবার্তা বলা শুরু করেন। প্রত্যাক্ষদর্শী বেশকিছু ব্যক্তিরা জানান, আনোয়ারের ভাই সবুজ, সুমন ও মান্নানের নেতৃত্বে ভোক্তা অধিকারের লোকজন দের যাতা বলা শুরু করেন। বাধ্য হয়ে তারা প্রথমে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও বেকারীতে তালা মারেন। অভিযানকারীরাই বলেন যে কেমিক্যাল দিয়ে খাবার তৈরি হচ্ছে সেটা খেলে মরন ব্যাধী ক্যান্সার নিশ্চিত। এমনকি আটক করা আনোয়ার কে তাদের গাড়ীর ভিতরে প্রায় এক ঘন্টার মতো হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে পুলিশ পাহারায় ছিল। তার ভাই সবুজকেও আটকের নির্দেশ দিলেও হয়নি আটক। পরে মাত্র ২৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে আনোয়ার কে ছেড়ে দিয়ে সবকিছু হালাল করে দিয়ে চলে যান তারা । এবিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ রাজশাহী জেলার সহকারী পরিচালকের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রত্না বেকারীর ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মালিকের জামাই আনোয়ার কে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে গাড়ীতে তোলা হয় এবং প্রথমে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও তালা মারা হয়েছিল জানতে চাইলে তিনি জানান, সে খারাপ ব্যবহার করেছিল এজন্য কিছক্ষন গাড়ীতে রাখার পর ক্ষমা চাইলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, আর ৫০ হাজার না ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, যা শুনেছেন সেটা মিথ্যা আসামি ছাড়ব না আটক করব সেটা আমাদের একান্ত ব্যাপার বলে চরম দম্ভক্তি প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা। হ্যান্ডকাপ পরা আসামিকে ছাড়া যায় কিনা প্রশ্ন করা হলে উত্তর দিতে বাধ্য না বলে ক্ষিপ্ত হয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।