শিক্ষক হত্যা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন

ইভান চৌধুরী, বেরোবি প্রতিনিধি:-সারাদেশে শিক্ষক হত্যা, লাঞ্ছনা ও হেনস্থা এবং সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে বেগম রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয় (বেরোবি) শিক্ষক সমিতির আয়োজনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৭ জুলাই) সকাল ১১টায় বিশ^বিদ্যালয়ের শেখ রাসেল মিডিয়া চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল আজিমের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. শরিফুল ইসলাম, কলা অনুষদের ডীন ও বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. তুহিন ওয়াদুদ, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নিতাই কুমার ঘোষ, লোকপ্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আসাদুজ্জামান মন্ডল আসাদ ও রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল লতিফ প্রমুখ।
সারাদেশে শিক্ষকদের নিয়ে যে সমস্ত ঘটনা ঘটেছে তার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও বিচার দাবি করে বক্তারা বলেন, শুধু একজন শিক্ষককে হত্যা কিংবা জুতার মালা পড়ানো হয়নি, সারাদেশের শিক্ষককে সমাজকে হত্যা এবং জুতার মালা পড়ানো হয়েছে। দেশের মানুষের জন্য, মানুষের অধিকারের জন্য সর্বোপরি মানুষ গড়ার কারিগড় হিসেবে আমরা কাজ করতে চাই। আমরা এভাবে আর মানববন্ধনে দাঁড়াইতে চাই না।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে শিক্ষকরা আরও বলেন, সারা জীবন শিক্ষকরা শুধু তাদের জ্ঞান, শ্রম ও মেধা দিয়ে শিক্ষার্থীদের মানুষ হিসেবে গড়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে যার ফলশ্রুতিতে শিক্ষকরা এই লাঞ্ছনা উপহার পাবে তা খুবই কষ্টের এবং দুঃখজনক। আমরা চাই শিক্ষকের সাথে সব সময় শিক্ষার্থীদের মধুর সম্পর্ক গড়ে উঠুক কিন্তু সম্প্রতি একটি অশুভ শক্তি এটিকে বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে। আমরা এই অশুভ শক্তির কঠিন শাস্তি চাই।
মানববন্ধনে বক্তারা আরো বলেন, ‘যারা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তিকে বিশ্বাস করে না, সেই অপশক্তি বরাবরই বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। এসব ঘটনা নিশ্চিতভাবেই সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ধর্মব্যবসায়ী এক শ্রেনির স্বার্থান্বেষী মানুষের অপতৎপরতার ফল। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এ দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মূল্যবোধকে চরমভাবে আঘাত করবার জন্যই এগুলো ঘটানো হচ্ছে। সরকারকে এখনই এসব ঘটনা প্রতিহত করে এর সাথে জরিত সকলকে চরম শাস্তির আওতায় আনতে হবে, নয়তো দেখা যাবে একদিন এ সমাজে আর কোন শিক্ষকই থাকবে না।
মানববন্ধনে এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সদস্য, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, অনুষদের ডিন, হল প্রভোস্টসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।