শাজাহানপুরে মসজিদের ৪ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার সেনাপল্লী জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম মিলনের (৪৫) বিরুদ্ধে মসজিদ ফান্ডের ৪ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় মসজিদ কমিটি কয়েকজন সদস্যসহ ভুক্তভোগী এলাকাবাসী মসজিদের টাকা উদ্ধারে বগুড়া জেলা প্রশাসক,জেলা পুলিশ সুপার,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও),থানার অফিসার ইনচার্জ ও আড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তি নজরুল ইসলাম মিলন(৪৫) উপজেলার চোপিনগর ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামের মৃত মোকছেদ আলী খোকার ছেলে।বর্তমানে তিনি আড়িয়া ইউনিয়নের সেনাপল্লীতে বসবাস করছেন। পেশায় সাংবাদিকতা  করেন।কয়েক বছর ধরেই সেনাপল্লী জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন মিলন।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, নজরুল ইসলাম সেনাপল্লী জামে মসজিদের নামে রূপালী ব্যাংক ক্যান্টমেন্ট শাখায় থাকা মসজিদের হিসাব থেকে মসজিদ কমিটি সদস্যদের না জানিয়ে গোপনে গত বছরের পহেলা মার্চ দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা এবং একই মাসে ১৮ তারিখে আরও  এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা তুলে মসজিদের কোন উন্নয়নমূলক কাজ না করে সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করে।
চলতি বছরের গেল ২২ জুলাই মসজিদের অর্থের  হিসাব এবং ব্যাংক ষ্টেটমেন্ট তুললে মসজিদ টাকা আত্মসাৎ বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
এ বিষয়ে সেনাপল্লী জামে মসজিদের সদস্য আব্দুল হান্নান জানান, মসজিদে বিভিন্ন ব্যক্তির দানের টাকা নিরাপদে গচ্ছিত রাখার ব্যাংকে জমা ছিল।কিন্তুু আমাদের না জানিয়ে বর্তমান সভাপতি নজরুল ইসলাম মিলন গোপনে টাকাগুলো উত্তোলন করে আত্মসাৎ পায়তারা করছে।আমারা এলাকাবাসী ভালোমনে করে তাকে দ্বায়িত্ব দিয়ে ছিলাম,অথচ এই মসজিদে তার কোন দানের অংশ নেই।
আড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান জানান, মসজিদ টাকা আত্মসাতের বিষয়ে  সাংবাদিক মিলন বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পরিষদে দিয়েছে।এই মিলন এরআগেও চাকরি দেওয়া নামে টাকা নেওয়া,রাস্তার গাছ কেটে দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাৎ অভিযোগ আছে।
তবে টাকা আত্মসাতের বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম মিলন বলেন,মসজিদে উন্নয়ন প্রকল্প গতিশীল করার জন্য কমিটির সবার সম্মতিক্রমে এক জনৈকব্যক্তিকে ৪ লাখ টাকা দেয় হয়।এর বিনিময়ে ২০ লাখ টাকার ফান্ড এনে আমরা মসজিদটি করব।ফান্ড না আসায় মসজিদে উন্নয়ন ব্যহত হচ্ছে। কিন্তুু  বাহিরের এলাকার কিছু মানুষ নানা ধরনের কুৎসা রটাচ্ছেন।
মসজিদের উন্নয়নমূলক কাজের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি জানিয়ে মিলন আরও বলেন,মসজিদের ফান্ডে থেকে আমরা যে ৪ লাখ টাকা নিয়েছি।সেটা আগামী ৩ মাসের মধ্যে যদি না পাওয়া যায়।তাহলে নভেম্বরের ১ তারিখে মসজিদের ফান্ড থেকে নেয়া ৪ লাখ টাকা ফিরিয়ে দিব।
এদিকে ঘুষের বিনিময়ে মসজিদের উন্নয়নমূলক কাজের নামে মসজিদের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় বিপাকে পড়ছেন কমিটির সদস্য এবং মুসল্লীরা।এ নিয়ে উপজেলা সচেতন মহলের মধ্যে চলছে ব্যাপক সমালোচনা।
এলাকাবাসী মসজিদ টাকা আত্মসাতের সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।